চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দাপুটে জয়ে শেষ হাসি মাহমুদউল্লাহদের

শিরোপার লড়াই ছড়াতে পারেনি উত্তাপ। ফাইনালে মাঠের খেলা হয়েছে পুরোপুরি একপেশে। নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ নিজেদের করে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ।

লিগপর্বে মুখোমুখি দেখায় দুবারই নাজমুল একাদশের কাছে হেরেছিল মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ফাইনালে তারা ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। দাপুটে জয়ে শেষ হাসি হেসেছে মাহমুদউল্লাহর দল। ১৭৪ রানের লক্ষ্য টপকেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০.২ ওভার হাতে রেখে।

বিজ্ঞাপন

নাজমুল একাদশ: ১৭৩/১০ (৪৭.১ ওভার), মাহমুদউল্লাহ একাদশ: ১৭৭/৩ (২৯.৪ ওভার)

ম্যান অব দ্য ফাইনাল হয়েছেন সুমন খান। টুর্নামেন্টসেরা মুশফিকুর রহিম। সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন ইরফান শুক্কুর। সেরা বোলার রুবেল হোসেন। আর সেরা ফিল্ডার হয়েছেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান।

সুমন খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে লক্ষ্যটা রাখা গিয়েছিল নাগালে। সেটি সহজেই ছুঁতে লিটন দাস রাখেন দুর্দান্ত অবদান। এ ওপেনারের ১০ চারে ৬৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংসটা ছিল অসাধারণ। ইমরুল কায়েস ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সময় নেননি। দ্রুতই ছুটেছেন লক্ষ্যপানে।

৫৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন ইমরুল। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ২৩ রান করে। চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে ৪৪ রান।

পুরো টুর্নামেন্টে ব্যর্থ মুমিনুল হক ফাইনালে লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন। ব্যাটিং অর্ডার বদলেও রানের দেখা পাননি বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক। ৪ রান করে আল-আমিন হোসেনকে উইকেট দেন। ১৮ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় শুরু করেছিলেন দুর্দান্ত। ১৮ রান করে নাসুম আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন এ তরুণ।

বিজ্ঞাপন

লিটনের দারুণ ব্যাটিংয়ে ততক্ষণে দলের রান ৬৬। লিটন আউট হন দলকে জয়ের কাছে নিয়ে। ১২৯ রানের মাথায় বাঁহাতি স্পিনার নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হন।

রোববার মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শান্ত একাদশ ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসায় ফাইনালের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছিল না। সেখান থেকে একাই লড়ে যান ইরফান শুক্কুর। তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শান্ত একাদশ তোলে ১৭৩ রান। ১৭ বল আগেই সবকটি উইকেট হারায় তারা। তরুণ পেসার সুমন ৩৮ রানে নেন ৫ উইকেট।

রুবেল হোসেন ২ উইকেট শিকার করে ছুঁয়েছেন তামিম ইকবাল একাদশের সাইফউদ্দিনকে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি (১২) এ দুই পেসার। ফাইনালে নামার আগে রুবেলের উইকেট ছিল দশটি।

ইবাদত হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নেন একটি করে উইকেট।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে একে একে সাইফ হাসান (৪), মুশফিকুর রহিম (১২), সৌম্য সরকার (৫), আফিফ হোসেনের (০) উইকেট হারায় শান্ত একাদশ। ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা দলের হাল ধরেন অধিনায়ক। তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে চেষ্টা করেন বিপর্যয় সামাল দেয়ার।

কিন্তু শান্ত নিজেই উইকেট বিলিয়ে আসলে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৩২ রান করে লংঅনে ক্যাচ দেন।

ইরফান উইকেটে এসেই মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। হৃদয়ের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে তার ৭০ রানের জুটিতে দল পায় দেড়শ পেরোনোর পথ।