চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দান বাক্সের ৫ টাকা চুরির ঘটনায় বৃদ্ধ মুসল্লিকে পিটিয়ে হত্যা

আসাদুজ্জামান বাবুল, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: মসজিদের দান বাক্সের ৫ টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে এক মুসল্লি আরেক মুসল্লিকে চোর বলায় গোপালগঞ্জের ভোজরগাতি গ্রামের বাদল সরদার (৬০)-কে দুই যুবক পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। নিহতের স্ত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে তেলিগাতি বাড়ীর নিহত বাদল সরদারের বেয়াই দুলাল শেখ বলছেন ভিন্ন কথা। শনিবার ভোরে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শুরু হবার আগে ছবর সরদারের দুই ছেলে হামীম এবং শামীম মসজিদের দান বাক্স চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাদল সরদার দেখে ফেলেন।

‘দান বাক্স চুরির সাক্ষী দেয়ার কারণে হামীম এবং শামীম আমার বেয়াইকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং একই সঙ্গে আমার বোন ময়নাকে কুপিয়ে আহত করে।’

আহত ময়না এখন গোপালগঞ্জ আড়াইশ বেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে নিহতের স্বজন ও প্রতিপক্ষ ছাড়াও এলাকার একাধিক গণ্যমান্য মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এসআই মো. সাইফুল জানান: শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় জনৈক এক মুসল্লি মসজিদের দান বাক্সে ৫ টাকার একটি নোট দেন। নোটটি বাক্সের ভেতরে না যাওয়ায় পাশের আরেক মুসল্লি (ছবর সরদার) ওই নোটটি দান বাক্সের ভেতরে দিতে সক্ষম হন।

কিন্তু পাশে থাকা আরো কয়েকজন মানুষ বলতে থাকে নোটটি বাক্সের ভেতরে না দিয়ে ছবর সরদার টাকাটি পকেটে ঢুকিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। ইফতার শেষে ভোজরগাতি গ্রামের ফক্কু সরদারের ছেলে বাদল সরদার মসজিদের ভেতর থেকে ছবর সরদারকে ‘চোর’ বলে গালি দেন। প্রতিবাদ না করে ছবর সরদার বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।

এসআই জানান, এশার নামাজের কিছুক্ষণ আগে ছবর সরদারের ২ ছেলে হামীম এবং শামীম বাদল সরদারের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে চোর বলা কেন হয়েছে তা জানতে চেয়ে প্রমাণ চায়। এ নিয়ে ওই খানে প্রথমে একে অপরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চোর বলার বিষয়টি মানতে না পেরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল সরদারকে পিটিয়ে আহত করে।

গুরুতর আহত বাদল সরদারকে গোপালগঞ্জ আড়াইশ বেড হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ৯ টা ১২ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতে বাদল সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এমন খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই।

বাদল সরদারের মৃত্যুর পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।