চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দানবীর রণদা প্রসাদ হত্যার রায় বৃহস্পতিবার

মানবতাবিরোধী অপরাধ

মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা) ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।  এর আগে

বিজ্ঞাপন

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।  আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজি এম এইচ তামিম।

এ মামলার একমাত্র আসামি হচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমান। যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।

মাহবুবুর রহমান ও তার ভাই আব্দুল মান্নান তখন রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ রয়েছে।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়, ‘মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে অভিযান চালায়।

অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ ৭ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সবাইকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।’

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারি হলে ওই বছরের নভেম্বরে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

এরপর চলে বিচারিক কার্যক্রম। অবশেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য আসে।  আসামি মাহবুবুর রহমান এখন গাজীপুরের কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

মানবসেবায় ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থাকায় ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর খেতাব দিয়েছিল রণদা প্রসাদ সাহাকে। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। তিনি আর পি সাহা নামেও সমধিক পরিচিত।

রণদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।  এক সময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় নামেন রণদা প্রসাদ সাহা; থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজদিখানে।

Bellow Post-Green View