চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দশমাস পর ফিরেই জয় তুলল বাংলাদেশ

করোনায় দীর্ঘ সময় থমকে ছিল বিশ্ব ফুটবল, বাংলাদেশও মাঠে নামেনি। পরে ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল মাঠে গড়ালেও বাংলাদেশ ছিল পিছিয়ে। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নেপালকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অবশেষে মাঠে ফেরানো হল খেলা। দশমাসের আলসেমি ভেঙে ২-০ গোলের জয়ে ফের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরল লাল-সবুজরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার নেপালের বিপক্ষে নাবীব নেওয়াজ জীবনের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের গোলটি মাহাবুবুর রহমান সুফিলের। দুজনের গোলে ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে সাফ ফুটবলে নেপালের কাছে হারের জ্বালা কিছুটা হলেও মেটাল স্বাগতিকরা।

বিজ্ঞাপন

নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের সিরিজ আয়োজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে। পরের ম্যাচটি হবে মঙ্গলবার।

ম্যাচে বিশেষ আকর্ষণ ছিল দর্শকরা। সীমিত আকারে ৭ হাজার দর্শক মাঠে প্রবেশ করার পর স্বাগতিকদের দিকে সমর্থনের পাল্লাটা ছিল বেশ ভারি।

দশমাস পর ফুটবলে ফেরায় খানিকটা সাবধানী শুরু করে দুই দলই। মাঝমাঠকে প্রাধান্য দিয়ে দুদলকেই সাজানো হয় ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ও ফরোয়ার্ড সুমন রেজার।

নিজেদের সাত হাজার দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণে গেছে স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের সাফল্যের শুরু ১০ মিনিটে। ডি-বক্সের বাইরে ডানপ্রান্ত দিয়ে ঢুকতে চেয়েছিলেন ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিন। তাকে মার্কিংয়ে রাখা এক ডিফেন্ডার থাকায় সাদ ঝুঁকি নেননি, কাটব্যাক করে বল পাঠিয়ে দেন সেন্ট্রাল ডি-বক্সে।

যেখানে অপেক্ষায় বাংলাদেশের দুই ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবন এবং অভিষিক্ত সুমন রেজা। নেপালি ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পায়ে পান আন মার্কিংয়ে থাকা জীবন, দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়াতে বিন্দুমাত্র ঝামেলা পোহাতে হয়নি বাংলাদেশের জার্সি নাম্বার ‘নাইন’কে।

বিজ্ঞাপন

শুরুতে সাফল্য পেলেও প্রথমার্ধে পাল্লাটা আরও ভারি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২১ মিনিটে ফের এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন জীবন। অনেকটা সাদের মতো করেই ডি-বক্সে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দিকে বল ক্রস করেছিলেন, হেড করেছিলেন ইব্রাহিমও। সেটি প্রতিহত হয়েছে নেপালি খেলোয়াড়ের গায়ে।

দুই মিনিট বাদে বিশ্বনাথের থ্রো থেকে তপু বর্মণের হেডও অল্পের জন্য খুঁজে পায়নি লক্ষ্য।

পরে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুবার দারুণ সুযোগের হাতছানি। ২৭ মিনিট নেপালের জাল বরাবর ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন মানিক মোল্লা। তার ডান পায়ের আগুনে গোলার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন নেপাল গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বু। ৩২ মিনিটে সাদের পাস ফাঁকায় পেয়েও গোলবার উঁচিয়ে মারেন জীবন।

চারটির বেশি পরিবর্তনে খেলা পাল্টেছে বাংলাদেশের। শুরুর আক্রমণ দ্বিতীয় অর্ধে রূপ নেয় রক্ষণে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, জীবনদের তুলে নেন জেমি ডে। খেলার সুযোগ করে দেন মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদদের।

খেলোয়াড় পরিবর্তন হওয়ায় খেলাতেও পড়েছে ছাপ। সময়টাতে মূলত খেলায় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেছে নেপাল। গোল শোধে মরিয়া হয়ে বারবার উপরে উঠে গেছে দলটি। তাদের মরিয়া ফুটবলই বাংলাদেশকে এনে দেয় দ্বিতীয় গোলের সুযোগ।

খেলা শেষের ১২ মিনিট বাকি তখন। গোল শোধে মরিয়া হয়ে উপরে উঠে এসেছিলেন অতিথি ফুটবলাররা। এমন সময়ে মাঝ থেকে সতীর্থদের পাসে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক শানান সুফিল।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে দৌড়ে একাই বল পায়ে নেপালি গোলরক্ষককে বোকা বানান তরুণ উইঙ্গার সুফিল। পেছনে দুই নেপালি ডিফেন্ডার থাকলেও তার নাগাল পাননি। দশমাস বাদে ফুটবলে ফিরে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধানটা বাড়ান তিনি।