চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত দেশের ৫ কোটি মানুষ

দেশের ৫ কোটি মানুষ বিভিন্ন রকম থাইরয়েড জনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ৩ কোটি মানুষ জানে না তারা এ সমস্যায় আক্রান্ত এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই গ্রামে বসবাস করেন।

শনিবার বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মিলনায়তনে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন: বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পরও নীতি-নির্ধারক চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী সকলের মাঝেই রোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতার, উদ্যোগ ও পদক্ষেপের ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে। কিন্তু প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ হওয়ার আগেই আক্রান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশকে আয়রন ঘাটতির অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন: এই ভূখণ্ডে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ঘাটতি থাকার পরেও মাত্র ১৫০ জন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট রয়েছে। অথচ আয়রন ঘাটতির ফলে থাইরয়েড ডিজিজের মত মারাত্মক সব রোগের প্রকোপ দেশে দেখা দিচ্ছে। যা সম্পর্কে দেশের সাধারন জনগণ জানে না। এ কারণে নন কমিউনিকেবল ডিজিজের তালিকায় দ্রুত থাইরয়েড গ্রন্থির সম্পর্কিত রোগ গুলোকে সংযুক্ত করার আহ্বান ছাড়াও উন্নতমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন: বর্তমানে দেশের মানুষের শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডির সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এটা ক্ষতিকর। থায়রয়েডজনিত রোগ বিশ্বের ১ নম্বর রোগ। বাংলাদেশে সম্ভাব্য থায়রয়েড হরমোনজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি রোগীই জানেনা তাদের এই সমস্যা রয়েছে। তাই এই রোগ প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জনসচেতনতাই মূখ্য।

বিজ্ঞাপন

‘‘থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হওয়া উভয়ই রোগের সৃষ্টি করে। তাই বিয়ের আগে কিংবা গর্ভধারণের পূর্বে নারীদের অবশ্যই থায়রয়েড পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। এবং এ রোগের সম্ভাবনা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে তারপর গর্ভধারণ করা উচিত। নাইলে বাচ্চাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’’

চিকিৎসকরা বলেন: এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ হরমোনের তারতম্যের ফলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, হঠাৎ করে শরীর মোটা ও চিকন হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চোখ ভয়ংকর আকারে বড় হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব, এমনকি ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে। সাধারনত একজন পুরুষের বিপরীতে ১০ জন নারীর থায়রয়েড রোগে আক্রান্ত হয়।

বক্তারা আরো বলেন: থায়রয়েড গ্রন্থিটি গলার সামনের দিকে  অবস্থিত প্রজাপতিসদৃশ একটি গ্রন্থি। যা  ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালিকে প্যাঁচিয়ে থাকে। যদিও এটি একটি ছোট গ্রন্থি, কিন্তু এর কার্যকরীতা ব্যাপক। থায়রয়েড গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ভ্রুণ অবস্থা থেকে আমৃত্যু থায়রয়েড হরমোনের প্রয়োজন অপরিহার্য। এ হরমোনের তারতম্যের জন্য শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, শরীর মোটা হওয়- ক্ষয় হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং চোখ ভয়ঙ্করভাবে বড় হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বারডেম হাসপাতালের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ডা. জাফর এ লতিফ।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এসএম আশরাফুজ্জামান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাত, সহ-সভাপতি ডা. এম এ সামাদ, ইসি সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদুদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পাদক ডা. কাজী আলী হাসান, বিজ্ঞান ও গবেষণা সম্পাদক ডা. নাজমুল কবীর কুরায়েশী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহজাদা সেলিম প্রমুখ।