চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ত্রাণ বিতরণ যেন করোনা সংক্রমণের কারণ না হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে করোনা নিয়ন্ত্রণের এই জরুরি ছুটির সময়ে এক সার্কুলার জারি হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংকটকালে দেশে কর্মহীন মানুষের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে। গতকাল (২৯ মার্চ) রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দিনমজুরসহ যাদের আয়-রোজগার বন্ধ আছে এই ছুটিতে, তাদের সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে শহর ও গ্রামে কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন অবস্থায় আছে। যে সকল মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছে প্রধানমন্ত্রী সে সকল কর্মহীন লোক (যেমন: ভিক্ষুক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানগাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার) যারা দৈনিক ভিত্তিতে সংসার চালায়, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। করোনাসহ নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেয়া প্রতিটি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বারবার এদিকে নজর দিতে বলছেন সবাইকে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মহল প্রধানমন্ত্রীর ডাকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। একালীন অনুদান থেকে শুরু করে বেতনের অংশ দান করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষেরা নিজেদের মতো করে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের আহ্বানের পাশাপাশি সাহায্য সামগ্রী দিতে গিয়ে লোকসমাগম করা যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেসব পৌছে দিতে হবে বলেও পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে আহ্বান বা পরামর্শ যাইহোক না কেনো, জরুরি ছুটির পর থেকেই ত্রাণ-সাহায্য কর্মসূচিতে কমবেশি জনসমাগম হওয়া শুরু হয়েছে। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা বলে, ত্রাণ বিতরণ মানেই জটলা আর ধাক্কাধাক্কি। করোনার জন্য যে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, তা এই ধরণের ত্রাণ কর্মসূচিতে ব্যহত হবার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে কিছু কিছু চিত্র প্রকাশও হতে শুরু করেছে।

আমাদের আশাবাদ, এ ধরণের কর্মসূচির উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা এই বিষয়গুলো বেশ কঠোর ও কার্যকরভাবে দেখবেন। তাহলেই করোনার সংক্রমণ থেকে দেশ রক্ষা পেতে পারে।