চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তিনজনের ডিএনএ মিলে এক শিশুর জন্ম

তিনজন মানুষের ডিএনএ থেকে একটি শিশু জন্মদানের পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় সফল হওয়ার দাবি করেছেন গ্রিস ও স্পেনের ফার্টিলিটি বিষয়ক চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সন্তান জন্মদানে আপাতঃ অক্ষম এক নারী মা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

মঙ্গলবার জন্মের সময় ছেলেশিশুটির ওজন ছিল ২.৯ কিলোগ্রাম বা ৬ পাউন্ড। মা ও শিশু দু’জনেই সুস্থ আছেন।

এই গবেষক-চিকিৎসকদের মতে, তারা চিকিৎসাশাস্ত্রের এমন একটি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন যা বিশ্বজুড়ে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম দম্পতিদের কাজে লাগবে।

তবে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, প্রক্রিয়াটিতে কিছু নৈতিক সংশয় রয়ে গেছে। তাই পরীক্ষাটি চালানো উচিত হয়নি।

‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) বা সোজা কথায় টেস্টটিউব শিশু জন্মদানের একটি বিশেষ ধরনের পরীক্ষামূলক চেষ্টা ছিল এটি। এক্ষেত্রে বাবার শুক্রাণূ এবং মায়ের ডিম্বাণু ছাড়াও আরেকজন নারীর দান করা ডিম্বাণূ ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মূলত মাইটোকন্ড্রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত নারীদের জন্য এই গবেষণাটি শুরু হয়েছিল। কেননা এ জাতীয় রোগ মা থেকে সন্তানের কোষে ছড়ায়।

পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে ৩২ বছর বয়সী এক গ্রিক নারীর ওপর। এর আগে পরপর চারবার আইভিএফ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

মাইটোকন্ড্রিয়াকে বলা হয় কোষের ‘পাওয়ার হাউজ’। এর কাজ হলো খাদ্যকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে পরিণত করে। জীবদেহের প্রায় প্রতিটি কোষেই অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। আর প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতর থাকে তার নিজস্ব কিছু ডিএনএ।

এই মাইটোকন্ড্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে তা মায়ের দেহ থেকে ভ্রূণেও চলে যায়। যা থেকে নানা ধরনের জটিলতা, এমনকি গর্ভপাতও হতে পারে। অথবা জন্মের পর শিশুর বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য পরীক্ষামূলক আইভিএফ প্রক্রিয়াতে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিজিজে আক্রান্ত নারীর ডিম্বাণূকে শুক্রাণূ দিয়ে নিষিক্ত করা হলেও সেই ডিম্বাণূর ডিএনএতে একজন দাতার ডিম্বাণূর মাইটোকন্ড্রিয়া যুক্ত করে দেয়া হয়। এর ফলে ভ্রূণটিতে মায়ের দেহ থেকে মাইটোকন্ড্রিয়ার রোগটি ছড়ায় না।

তাই চারবারের ব্যর্থতার পর এই প্রক্রিয়ায় সন্তানের মুখ দেখলেন গ্রিসের এই ‘অনুর্বর’ দম্পতি। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিজিসে আক্রান্ত এই নারী এখন একজন মা। কিন্তু তার সন্তানের জিনগত গঠনে শুধু তার আর তার সঙ্গীর ডিএনএ নেই, আছে আরেক নারীরও অংশ। কেননা দাতা নারীর মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব ডিএনএ’র অংশ নিয়ে শিশুটির প্রতিটি কোষ গঠিত হয়েছে।