চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বড় বড় শহরে তালেবান আক্রমণের পর আফগানিস্তানে যুদ্ধ বাড়ছে

পরাজিত হলে তালেবানদের প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যেই আফগানিস্তানের একটি প্রধান শহরে তীব্র লড়াই চলছে।

আমেরিকান ও আফগান বিমান হামলা সত্ত্বেও দক্ষিণ হেলমান্দ প্রদেশের লস্করগাহে ব্যাপক আক্রমণ চালাচ্ছে তালেবানরা। এরই মধ্যে একটি টিভি স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়ের জন্য গ্রামের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একজন ডাক্তার তার হাসপাতাল থেকে বিবিসিকে বলেন, চারপাশে শুধু যুদ্ধ আর যুদ্ধ।

জঙ্গিদের মোকাবেলায় শত শত আফগান সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটিতে সামরিক অভিযানের ২০ বছর পর মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করায় সম্প্রতি তালেবানরা দ্রুত এগিয়ে এসেছে। মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হেলমান্দ এবং সেখানে তালেবানদের জয় আফগান সরকারের জন্য একটি বড়সড় ধাক্কা হবে।

যদি লস্কর গাহ পরাজিত হয়, তাহলে এটি হবে ২০১৬ সালের পরে তালেবানদের জয় করা প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী। বর্তমানে তিনটি প্রাদেশিক শহরে আক্রমণ চালাচ্ছে তালেবানরা।

শহরের একজন আফগান সামরিক কমান্ডার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তালেবানদের বিজয় ‘বিশ্ব নিরাপত্তার উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে’।

মেজর জেনারেল সামি সাদাত বলেন, এটা শুধু আফগানিস্তানের যুদ্ধ না, এটা স্বাধীনতা ও সর্বগ্রাসীতার মধ্যে যুদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার আফগান তথ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের ‘হামলা এবং হুমকি’র মুখে ১১টি রেডিও এবং চারটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তাদের সম্প্রচার বন্ধ করেছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বড় শহর কান্দাহারও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা।  রোববার সেখানকার বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালায় তারা। কান্দাহার দখল করা তালেবানদের জন্য একটি বিশাল প্রতীকী বিজয় হবে, যা তাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপর একটি নিয়ন্ত্রণ দেবে।

তৃতীয় বড় শহর হেরাতেও যুদ্ধ চলছে। শুক্রবার জাতিসংঘের একটি চত্বরে হামলার পর সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা আবার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সরকারি সেনার বিজয়ে সেখানকার জনগণকে ছাদে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে।

তালেবানদের অগ্রগতিতে বেশ চাপে পড়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি মার্কিন সেনাদের হুট করে তুলে নেওয়াকেই সেজন্য দায়ী করেন।

সংসদে তিনি বলেন, হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির কারণ। তিনি ওয়াশিংটনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর পরিণতি ভুগতে হবে।

তবে প্রায় সব সেনারা চলে গেলেও এখনও সরকারে সমর্থনে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন সোমবার ঘোষণা করেছে যে, সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা আরও হাজার হাজার আফগান শরণার্থীকে গ্রহণ করা হবে।