চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তার কথা শুনে মনে হলো বই পড়ছি..!

বাঙালির সপ্তম ঋতু (পর্ব-২০)

বইমেলার মৌসুমে এই শহরে কিছুই হয় না। আমরা বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলি। গ্রাম থেকে আসা একজন লেখক থাকার জায়গা পান না। আত্মীয় হাতড়ে বেড়ান। দুর্মূল্যের বাজারে এই ঢাকা শহরে বসবাসকারীদের মতো অসহায় আর নেই। এখানে মধ্যবিত্তরা নিকটাত্মীয়কেও খুব বেশি স্বাগত জানাতে সাহস করে না।

গ্রাম থেকে এক ভদ্রলোক বইমেলায় এসেছেন। বাস থেকে নেমে বইমেলা হয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছেছেন। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর তার আর মন টানেনি সেখানে থাকতে। তিনি এখানে সেখানে, ফুটপাতে, চায়ের দোকানে ঝিমিয়ে রাত কাবার করে পরদিন সকালে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ঢুকেছেন। অনেক মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমোতে দেখে তিনিও ঘুমিয়েছেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে হাতের ব্যাগটি আর পাননি। সেখানে তেমন কিছু ছিল না। আগের দিনে কেনা দুটি বই, লুঙ্গি আর গামছা। লোকটির সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ হাঁটছিলাম বইমেলায়। তার কথা শুনে মনে হলো বই পড়ছি।

Reneta June

দিনে দিনে বইমেলার প্রসার ঘটছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বইমেলাকে ঘিরে একটি সাহিত্য পর্যটনের কথা আমরা ভাবতে পারছি না। বইমেলায় যারা আসবে তাদের জন্য এই শহরের বাসগুলোতে হাফ টিকেট থাকবে, হোটেল রেঁস্তোরায় খাদ্যমূল্য কম থাকবে, এই শহরের সবকিছুতেই বইমেলার আবহ থাকবে, বিপনীকেন্দ্রগুলোতে বইমেলার ছাড় থাকবে, দর্শনীয় জায়গাগুলিতে বইমেলার পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, এমন স্বপ্ন এবারই প্রথম দেখেছি। আমার মনে হয়েছে বইমেলার নির্দিষ্ট লোগোটির আদলে সেজে উঠুক এই শহরের সবগুলি বাস, সেজে উঠুক বিভিন্ন চত্বর ও মোড়গুলো।

বিজ্ঞাপন

বাইরে থেকে আসা মানুষদের জন্য সুযোগ সুবিধা দেয়ার উপায়টি কী হতে পারে? আমার মনে হয়, সারাদেশে যে কোনো প্রান্ত থেকে অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। যারা ঢাকা এসে বইমেলার সুযোগ সুবিধা নিতে চান, তারা নিবন্ধন করবেন। এর মধ্য দিয়ে বইমেলার নিবন্ধিত দর্শকদের একটি ডাটাবেইজ তৈরি হয়ে যাবে। নিবন্ধনের সময় তারা একটি টিকেট প্রিন্ট নিতে পারবেন।

ওই টিকেটটি দেখিয়ে তিনি ঢাকা শহরের বইমেলার মৌসুমের সব সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

বইমেলা চলাকালে বইমেলা প্রাঙ্গনের আলো ঝলমলে পরিবেশের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বই বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। তবে মেলায় না আসলে ক্রেতা কমিশন পাবেন না, এমন ব্যবস্থা থাকবে।

বইমেলায় এক ধরনের সুযোগ ঠিকই দিচ্ছে বিকাশ। তারা শতাংশে দশ টাকা ফেরত দেয়। তাদের এটি বাণিজ্যিক কর্মতৎপরতার অংশ। এক ধরণের প্রমোশন। বইমেলায় বহু প্রতিষ্ঠানকেই এমন প্রমোশনের আওতায় আনা যেতে পারে। শুধু এর জন্য অর্থবহ সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা দরকার। স্বপ্নের বাঁশি বাজাতে পারলে কাজগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য দক্ষ মানুষের অভাব নেই এদেশে।