চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তার কণ্ঠে মুখরিত হবে না আর এই প্রান্তর: ফকির আলমগীরের স্ত্রী

গণমানুষের জন্য গাইতেন ফকির আলমগীর। তার গানের পরতে পরতে বাংলার নিপীড়িত, বঞ্ছিত মানুষের কথা। যে কোনো আয়োজনে গগন বিদারী কণ্ঠে মানুষের জন্য গেয়ে উঠতেন তিনি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রান্তরে প্রায়শই মেহনতি মানুষের কোনো অনুষ্ঠানে কান পাতলেই শোনা যেত ফকির আলমগীরের কণ্ঠ!

সেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আজও ছিলেন ফকির আলমগীর। কিন্তু আজ তিনি চুপ। নিথর দেহে শুয়েছিলেন। অসংখ্য ফুলের মাঝখানে দেশের পতাকায় মোড়ানো তাকে শোক জানাচ্ছিলেন রাজ্যের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকাল ১১টায় পল্লীমা সংসদের মাঠে ফকির আলমগীরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাকে নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

যে শহীদ মিনারে কতো শত অনুষ্ঠানে গর্জে উঠেছে ফকির আলমগীরের কণ্ঠ, অথচ সেখানে উপস্থিত থেকেও তার এমন নির্লিপ্ততা যেন মানতে পারছিলেন না সহধর্মিনী সুরাইয়া আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তাইতো মাইক্রোফোন হাতে নিজের সঙ্গীকে নিয়ে বলে উঠলেন, ‘এই শহীদ মিনার আর ফকির আলমগীরের কণ্ঠে, সুরে মুখরিত হবে না। তার মতো বিপ্লবী কণ্ঠে উদ্ভাসিত হবে না এই প্রান্তর। তিনি চলে গেছেন সব বন্ধন ছিন্ন করে।’

তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুরোধ জানালেন, গণসংগীতের প্রজ্জ্বলিত মশাল এতোদিন বয়ে চলেছেন ফকির আলমগীর, তা যেন পরবর্তী প্রজন্ম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। যেন এই ধারার সংগীতের মাধ্যমে মেহনতি মানুষের কথা উচ্চারিত হয়।

এসময় সরকারের কাছে একটি দাবি জানিয়ে সুরাইয়া আলমগীর জানান, ফকির আলমগীর ছিলেন গণমানুষের শিল্পী। তিনি যেমন সাধারণ লোকের জন্য শত শত গান করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার গান বীর যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। শোষণ, অন্যায়-অবিচারের কথা তিনি গানে গানে বলেছেন, তার মতো এমন বলিষ্ঠ কণ্ঠযোদ্ধাকে যেন পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেন নতুন প্রজন্ম তার মতো একজন আদর্শ শিল্পীকে চিনতে পারে।

এসময় বৃষ্টি, মহামারী আর লকডাউন উপেক্ষা করে যারা কিংবা যেসব সংগঠন শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সুরাইয়া আলমগীর।