চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তারেক রহমান বিএনপির সম্পদ না বোঝা?

ঘটনাচক্রে ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের শেষ সপ্তাহটি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। চীন সরকারের আমন্ত্রণে আমরা বাংলাদেশ থেকে নয়জন সাংবাদিক অলিম্পিকের শেষটা দেখতে গিয়েছিলাম। পুরো অলিম্পিকের সময় জুড়েই চীন সারাবিশ্ব থেকে ৬০০ সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেইজিং নিয়ে গিয়েছিল। শেষ পালায় আমরা বাংলাদেশিরাসহ ছিলাম নানা দেশের প্রায় দেড়শ সাংবাদিক।

এরকম কর্মসূচিতে গিয়ে যা হয়, তাই হলো। নতুন বন্ধু পেলাম অনেক। তাদের মধ্যে মালদ্বীপ থেকে আসা একজনের সঙ্গে এক দুপুরে টিপিক্যাল এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেয়ে, আসলে না খেয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। মালেতে এক হোটেল থেকে মিনিট তিনেকের দূরত্বে অন্য হোটেলে যেতে ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলাম ঘটনাটার উল্লেখে দু’জনই হাসাহাসি করছিলাম বেশ। কথা প্রসঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিয়েছিলাম: সম্ভবতঃ সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছিলেন, পুরো মালে এক চক্কর দিতে মোটরগাড়িতে আধা ঘণ্টা সময় লাগে। সেদেশের প্রেসিডেন্টের একটি মোটরগাড়ি আছে। তিনি সেই গাড়িতে চড়ে কী শান্তি পান সেটা তিনিই জানেন!

এরকম হাসি-তামাশার মধ্যে কথা প্রসঙ্গে রাজনীতি এলো। এলো তাদের সেসময়ের প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমের কথা। গাইয়ুম সাহেব আমাদের দেশে খুব পরিচিত মুখ। সেই সার্ক গঠন থেকেই তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশে অনেকের কাছে তিনি যে একজন ভালো মানুষের প্রতিরূপ সেটা বলতেই, মালদ্বীপের ওই বন্ধু তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। তিনি বললেন, মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন। একজন মানুষকে এভাবে ২৮ বছর ধরে প্রতিদিন দেখাও একটা যন্ত্রণার বিষয়। সেদিন তার চোখে পরিবর্তনের একটা আকাঙ্ক্ষা দেখেছিলাম। দীর্ঘসময় ধরে একজনই সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান থাকলে এ আকাঙ্ক্ষাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

মামুন আব্দুল গাইয়ুমের মতো এভাবে দশকের পর দশক না হলেও, টানা প্রায় এক দশক ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় শেখ হাসিনা। অন্য কোনো কারণ না থাকলেও অল্পতেই অধৈর্য বাঙালির এক বড় অংশের জন্য শুধুমাত্র এ কারণেই একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। সামনে যেহেতু নির্বাচন, ইচ্ছেটাও তাই প্রকাশ হচ্ছে নানাভাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক কাজের প্রশংসা করলেও, তিনি যে ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, শুধুমাত্র এ কারণেই অনেকে মনে করেন, এবার না হয় অন্য কেউ আসুক।

মানুষের মন যেহেতু পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র, তাই একজন মানুষকে বছরের পর বছর ক্ষমতায় দেখার কারণে পরিবর্তনের, মানে তার জায়গায় অন্য কাউকে দেখার ইচ্ছেটাকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না। সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মানও জানাতে হবে। এটাই গণতন্ত্র, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

এখন দেখা দরকার যে, বাংলাদেশে সেই পরিবর্তনটা কার হাত ধরে আসবে? কিংবা মানুষ কার মাধ্যমে সেই পরিবর্তনটা আশা করে বা করছে কিংবা করবে?

যেকোনো আলোচনায় যারা বিকল্প-বিকল্প বলে চিৎকার করেন, বিকল্প শক্তির উত্থানের কথা বলেন, নির্মম বাস্তবতা হলো যে, সুদূর অতীতে তাদের কিছু শক্তি এবং কিছু সমর্থন থাকলেও এখন সেই বামপন্থীরা নিজেদের ফসিল ছাড়া আর কিছু নয়। আবার বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও মোটামুটি উদার সংস্কৃতির উত্তরাধিকার হিসেবে ধর্মীয় কোন শক্তিকেও রাষ্ট্রক্ষমতায় বেছে নেবে না। এ ধর্মীয় শক্তির বড় একটি অংশ যেহেতু এ রাষ্ট্রের জন্মেরই বিরোধিতা করেছে, তাই ওইরকম যেকোনো লেবাস আপামর সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তুরস্ক বা মিশরের ধর্মীয় শক্তিগুলোর স্বাধীনতাবিরোধিতার মতো কালো অধ্যায় না থাকার কারণে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারলেও বাংলাদেশে ধর্মীয় রাজনীতির বড় একটি অংশ স্বাধীনতাবিরোধী হওয়ার কারণে মানুষ কখনো তাদের বেছে নেবে না সেটা প্রমাণিত সত্য।

বিকল্প তাহলে কী?

হ্যাঁ, যেটা ভাবছেন, বিকল্প সেটাই। বিকল্প হলো বিএনপি যারা ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবার নিহত হওয়ার পর এদেশে আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি হিসেবে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছে। এ দলটি হত্যা-ক্যুয়ের পথ ধরে গড়ে উঠলেও এর প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি ব্যর্থ ক্যুয়ে নিহত হওয়ার পর দলটির হাল ধরা বেগম খালেদা জিয়ার ইতিহাস ভিন্ন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী সংগ্রামে তার আপাত আপোষহীন চরিত্রের কারণে এদেশের মানুষ তাকে অভাবিতভাবে ৯১’র নির্বাচনে জয়ী করেছিল। পরে ২০০১ এর নির্বাচনেও তাকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করেছিল বাংলাদেশের মানুষ।

পরের ইতিহাসটা অবশ্য ভিন্ন।

বেগম জিয়া এবং তার দল বিএনপির সেই ইতিহাসটা পাল্টে দিয়েছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। বয়স কম হওয়ার কারণে বেগম জিয়ার ‘স্বৈরাচারবিরোধী’ আন্দোলনে তারেকের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। একানব্বই সালে তার মা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রকাশ্যে তারেক বা তার ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকোর দৃশ্যমান কোনো উপস্থিতি ছিল না। তারেক রহমানকে আমরা রাজনীতির মাঠে প্রথম দেখতে পাই ৯৬’র নির্বাচনে বিএনপি বিরোধীদলে যাওয়ার পর। দুই হাজার এক সালের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা এবং এরপর সরকার গঠন থেকে শুরু করে সরকারের ভেতরে-বাইরে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে যান তারেক রহমান। তার সেই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল হাওয়া ভবন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা কুখ্যাত একটি ভবনের তকমা পেয়েছিল। এ ভবন থেকে সমান্তরাল একটি সরকার চালু হয়েছিল, সরকারি সব প্রকল্প ঠিক হতো সেখান থেকে। তবে, ভবনটি সবচেয়ে বেশি কুখ্যাতি পেয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর। তখন থেকেই জনশ্রুতি ছিল যে, হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। পরে আসামীদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যে তা প্রমাণ হয়েছে।

সাজানো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে হঠাৎ করে সেনাপ্রধান পরিবর্তনের পথ ধরে যে ওয়ান ইলেভেন এসেছিল, বঙ্গভবনের মাধ্যমে সেই কলকাঠিও নাড়া হয়েছিল হাওয়া ভবন থেকে। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ার সূত্রে তার ফল পেয়েছেন তারেক রহমান। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে গিয়ে তাকে যেমন দেশান্তরী হতে হয়েছে, তেমনি তার দল ফলও পেয়েছে ২০০৮ এর নির্বাচনে, মাত্র ৩০টি আসন পেয়ে। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর যে সুযোগ ছিল, বিশেষ করে ২০১৩ সালে গণজাগরণের পর জামায়াতকে ছুঁড়ে ফেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার যে সুযোগ এসেছিল, সেটাও তিনি বা তার দল কিংবা তার মা বেগম জিয়া গ্রহণ করতে পারেননি। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে জামায়াতসহ বিএনপি সহিংসতার যে পথ ধরেছিল, যে কৌশলে বিএনপি দেশে-বিদেশে আরো বন্ধু হারিয়েছে, সেই নির্বাচন বয়কটের নেপথ্যে ছিলেন তারেক রহমান।

বিএনপির একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি মনে করেন, ওই নির্বাচন বয়কট না করে অন্তত সংসদে থাকলে তাদেরকে এতো মামলার মুখোমুখি হতে হতো না কিংবা চিকিৎসার জন্য বারবার উচ্চ আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে বিদেশে যেতে হতো না। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে, তারা মনে করেন, বিএনপি সংসদে থাকলে বেগম জিয়াকেও এভাবে দিনের পর দিন কারাগারে থাকতে হতো না।

এখন বেগম জিয়াকে ছাড়াই বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হচ্ছে। তারা আগে বারবার বলেছে যে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় নিজেদের কথা গিলে এবং বিএনপি মহাসচিবকে প্রকাশ্যে কান্নাকাটি করে এখন সে পথেই হাঁটতে হচ্ছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আপাতত একজন অভিভাবকের সন্ধানে বিএনপি ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারেই নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি।

প্রধান নেতা কারাগারে, আর নেপথ্যের নেতা লন্ডনে পালিয়ে- এরকম একটি অবস্থায় নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে আসতে পরে এমন বড় একটি দিক হলো, গত ১০ বছরে ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ‘এন্টি ইনকাম্বেন্সি’ হিসেবে সরকারবিরোধী যে মনোভাব গড়ে উঠেছে তার সদ্ব্যবহার।

কিন্তু পুরোটাই কি তাই ঘটবে?

এখানেই আসতে পারে তারেক রহমানের ইমেজের প্রশ্ন। এটা প্রমাণিত যে, সুইং ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে। মূলত দ্বি-দলীয় চিন্তার বাংলাদেশে সুইং ভোটার খুব বেশি নেই, এখানে নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করে নতুন ভোটার; মানে প্রথম যারা ভোটার হলেন। এবারের নির্বাচনে ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটারের মধ্যে একেবারে নতুন ভোটার ৪৩ লাখ। বাস্তবে সংখ্যাটা সোয়া দুই কোটি ধরা উচিত। কারণ ২০০৮ এর নির্বাচনের পর ভোটার বেড়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ এবং গতবার একপক্ষীয় নির্বাচন হওয়ায় এবারই অনেকে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। শেষ পর্যন্ত তাই নির্বাচনের ফলাফল ঠিক করে দিতে পারেন আড়াই কোটি তরুণ ।

এ তরুণরা গত ১০ বছর যেমন দেশের অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নতি দেখেছে, তেমনি সুশাসনের অভাবও প্রত্যক্ষ করেছে। বিভিন্ন সময় নানা অরাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের একটি অংশ রাজপথেও নেমে এসেছে। কেউ কেউ টানা ১০ বছর একই দল বা জোটকে ক্ষমতাসীন দেখে এক ধরণের বিরক্তিতেও ভুগে। এসবকে পুঁজি করেই হয়তো বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, যে স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক।

কিন্তু, নির্দলীয় তরুণরা যদি আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ হাসিনার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চায়, সেক্ষেত্রে তারা কার উপর ভরসা করবে? প্রবীণ হওয়ার পরও নিজের কার্যক্রম, কর্মকাণ্ড এবং কর্মসূচি দিয়ে তরুণদের অনেকের কাছেই শেখ হাসিনা তরুণদের এবং তরুণ নেতা। বিপরীতে বেগম খালেদা জিয়া গত ১০ বছরের প্রথম পাঁচ বছর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জনআকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে ব্যর্থ, আর পরের পাঁচ বছর রাজপথে জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ। শেখ হাসিনা যেখানে তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে পারেন, বেগম জিয়া সেখানে স্বপ্নহীন প্রায় জড়বৎ একটি ইতিহাস। ডিজিটাল এ যুগে গুগল সার্চেই তরুণরা বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলের যে চিত্র পায় সেটাও তাদের জন্য কোনো আশার আলো নিয়ে আসে না। বরং তারা জানতে পারে যে, তার আমল ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদের উত্থানের সময়, তার আমল ছিল দুর্নীতিতে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময়। তারা এমন কোনো তথ্য-উপাত্তও পায় না যাতে বুঝতে পারে যে তখন দেশের অগ্রগতি হয়েছে, তরুণরা নতুন স্বপ্ন দেখেছে।

এক্ষেত্রে বিএনপির নিজেরই একজন তরুণ নেতার উপর ভরসা করতে পারা উচিত ছিল। তার নাম তারেক রহমান। কিন্তু, তরুণদের কাছে তার ইমেজ আসলে কী? তরুণরা জানে যে, তারেক রহমান ওয়ান ইলেভেনের সময় দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে ‘আর রাজনীতি করবেন না মুচলেকা’ দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে লন্ডনে বসে প্রথমদিকে তিনি অদ্ভুত এবং মিথ্যা তথ্য ও তত্ত্ব দিয়ে ‘সে’ সম্বোধনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা সম্পর্কে শুধু বিষোদগারের বক্তৃতা-বিবৃতির রাজনীতি করে গেছেন। পরে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। দুই হাজার ১৪ সালের একপক্ষীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতকে দিয়ে সহিংসতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি দুর্নীতি ও গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছেন, কিন্তু নিজে দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার সাহস দেখাননি।

তার সম্পর্কে এসব সমালোচনাকে যদি ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বলা হয়, তাহলেও প্রশ্ন যে, তিনি এবং তার দল কিংবা তার মা বেগম খালেদা জিয়া তরুণদের কি কোনো স্বপ্ন দেখাতে পেরেছেন? কোনো স্বপ্নময় বাংলাদেশের স্বপ্ন কি দেখাতে পেরেছেন তারা? যদি পারতেন তাহলে এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান হতে পারতেন বিএনপির জন্য এক বড় সম্পদ।

কিন্তু, বাস্তবতা কী বলে?

তারেক রহমানের নিজের এরকম ইতিবাচক ইমেজ থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এখন অথৈ সাগরে পড়তে হতো না। সম্পদ হওয়ার বিপরীতে তারেক রহমান বিএনপির জন্য বোঝা হওয়ার কারণেই মির্জা ফখরুলদের আজ ড. কামালের ইমেজ ধার করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)