চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তারেককে পাবো না, তবু এ রায় সান্ত্বনা: ক্যাথরিন মাসুদ

‘তারেককে আর পাবো না তবু এ রায় আজ এক সান্ত্বনা। এ রায়ে আমি খুশি।’  তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের দেয়া রায়ের পরে এই প্রতিক্রিয়া জানান তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ।

ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, এ রায় ৭ বছরের ছেলের জন্য সান্ত্বনা, তারেকের মায়ের জন্য সান্ত্বনা। এ রায়ের মাধ্যমে আইনগতভাবে প্রমাণ হলো যে, এটি দুর্ঘটনা নয়। এতে ড্রাইভার, বাস কোম্পানি ও ইনস্যুরেন্সের দায় আছে। এখন থেকে এ রায়ের আলোকে এ ধরণের ঘটনায় অন্যরাও ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুতে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ক্ষতিপূরণের এই টাকার মধ্যে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দেবে ৮০ হাজার টাকা, বাস চালক দেবেন ৩০ লাখ এবং বাকি চার কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা বাসের তিন মালিকের প্রত্যেক মালিককে এক কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা করে দিতে হবে।

বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

এই মামলায় নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও রমজান আলী সিকদার। বাস মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার এবং রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও ইমরান এ সিদ্দিক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের সিইও মিশুক মনিরসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী। চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এই ঘটনায় বাদী হয়ে একটি মামলা করে। আর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।

পরে পরিবারের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদীপক্ষ। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মামলা দুটি বদলির আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য নির্ধারন করে দেন প্রধান বিচারপতি।

পরবর্তীতে বিষয়টির হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয় এবং গত ১৬ নভেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। এরপর গত ২৯ ও ৩০ নভেম্বর রায় ঘোষণার কার্যক্রম চলে রায়ের মূল অংশ আজ ঘোষণা করা হয়।

Bellow Post-Green View