চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তামিম-পেরেরার ঝড়ে সহজ জয় ঢাকার

প্রথম ম্যাচে ৫ রান করা তামিম দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেকে ফিরে পেলেন। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে খেলেন ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তার সঙ্গে থিসারা পেরেরা ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস। বোলিংয়েও পাঁচ উইকেট নেন এই লঙ্কান অলরাউন্ডার। পেরেরার সঙ্গে অন্যদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে জয়ের খাতা খুলল ঢাকা প্লাটুন। কুমিল্লাকে ২০ রানে হারায় মাশরাফীর দল।

আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮০ রান করে ঢাকা। শেষ ১০ ওভারে ১২১ রান সংগ্রহ করে দলটি। জবাবে ১৬০ রানে থামে কুমিল্লার ইনিংস।

চ্যালেঞ্জিং টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করে কুমিল্লা। তিন ওভারের আগেই তুলে ফেলে ৩২ রান। তবে তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে কুমিল্লার তুখোড় শুরু থামান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ১২ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ২৯ রান করা ভানুকা রাজাপাকসাকে সরাসরি বোল্ড করেন ঢাকা অধিনায়ক।

দ্বিতীয় সাফল্য পেতে অবশ্য সময় লাগেনি ঢাকার। মেহেদী হাসানের বলে জাকে আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার ইয়াসির আলি। তবে ৫০ রানের জুটিতে কুমিল্লাকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার ও ডেভিড মালান। কিন্তু ২৬ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রান করার পর ওয়াহাব রিয়াজের বলে বিজয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য।

পরে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা পেরেরা পরপর দুই উইকেট নিয়ে কুমিল্লার জন্য ম্যাচ কঠিন করে ফেলেন। সাব্বির রহমান (৪) ও ধানুস সানাকা (০) দুজনের ক্যাচই নেন বিজয়। সৌম্য ফেরার পর চেষ্টা করেছিলেন মালান। কিন্তু ৪০ রান করার পর তাকে আর সুযোগ দেননি ওয়াহাব রিয়াজ। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন পাকিস্তানি পেসার।

ঢাকার পেসার তোপের সামনে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। কিন্তু ৩৭ রান করা মাহিদুলকেও ফেরান পেরেরা। ব্যাটের মতো বোলিংয়েও ঝড় তোলেন শ্রীলঙ্কান এই অলরাউন্ডার। চার ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। কুমিল্লার ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৬০ রানে।

এর আগে ঢাকার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন এনামুল হক বিজয়। আফগান স্পিনার মুজিব-উর রহমানের বলে এলডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। দলীয় ২৬ রানে ঢাকা হারায় দ্বিতীয় উইকেট। ১৭ বলে ১২ রান করে আবু হায়দার রনির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান।

বিজ্ঞাপন

চাপের মুখে ধীরে সুস্থে শুরুটা করেন তামিম। প্রথম ১৫ বলে ৭ রান করেন। পরে ২৭ বলে ২১। দশম ওভার থেকে হাতখুলে খেলতে থাকেন। হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৪০ বলে। প্রথম দশ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ ছিল ৫৯/২।

লরি ইভান্সকে জুটি গড়ে নিয়ে ১৪.২ ওভারে ১০০ পার করেন তামিম। তবে তিন অঙ্কের কোঠা ছোঁয়ার পরই আউট হন ইভান্স। ধাসুন শানাকার বলে বাউন্ডারি লাইনে আবু হায়দার রনির হাতে ধরা পড়েন তিনি। ২৪ বলে ইভান্সের সংগ্রহ ২৩ রান। এরপর উইকেটে এসেই ঝড় তোলেন থিসারা পেরেরা। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রান করা পেরেরা রনির করা ১৬তম ওভারেই নেন ২৩ রান।

পরের ওভারে শানাকাকে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে আউট হন তামিম। ৫৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংসটি তামিম সাজান ৬ চার ও ৪ ছক্কায়। সব মিলিয়ে ১০ ইনিংস ও প্রায় ছয় মাস পর ফিফটির দেখা পেলেন তামিম। এর আগে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেন তিনি। বিশ্বকাপে ওই একটাই ছিল তার ফিফটি। বাকিটা সময় ছিলেন খোলসে আবদ্ধ। এরপর শ্রীলঙ্কা সিরিজে তো আরও করুণ অবস্থা ছিল তার। তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২১ রান।

ব্যক্তিগত কারণে ভারত সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন না তামিম। বিপিএলের আগে সবশেষ মাঠে নামেন ১০ অক্টোবর জাতীয় ক্রিকেট লিগে। এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরে অধিনায়ক হিসেবে খেলতে গিয়ে চরম ব্যর্থ হন। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে সব মিলিয়ে করেন ২১ রান। সবশেষ ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

১৮তম ওভারে জোড়া উইকেট হারায় ঢাকা। সৌম্য সরকার বোলিংয়ে এসে তুলে নেন দুই পাকিস্তানি শহীদ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজকে। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া আফ্রিদি এবারও ব্যর্থ। ৪ রান করে ডেভিড মালানের হাতে ধরা পড়েন। পরের বলেই আউট রিয়াজ (০)।

পেরেরার কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ১৮০ রানে থামে ঢাকা। ১৭ বলে ৭ বাউন্ডারি আর এক ওভার বাউন্ডারিতে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন পেরেরা। অধিনায়ক মাশরাফী ৫ বলে এক ছক্কায় করেন ৯ রান। কুমিল্লার হয়ে শানাকা ও সৌম্য ২টি করে উইকেট নেন।

শেয়ার করুন: