চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তামিম চান না সেই ‘দুঃস্বপ্নে’ তাকে বা পরিবারকে ফিরতে হোক

ব্যর্থতার কারণ খুঁজেছেন, এখন চান রান

বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে প্রথম তিন ম্যাচে নিজের নামের প্রতি একদমই সুবিচার করতে পারেননি তামিম ইকবাল। অথচ দারুণ ফর্ম নিয়েই ইংল্যান্ড গেছেন। রান না পাওয়াটা ভাবাচ্ছে তাকেও। ব্যর্থতার কারণও খুঁজে বের করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। তামিমের মতে, নিজের উপর প্রত্যাশার চাপ সৃষ্টি করার কারণেই নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারছেন না।

প্রথম তিন ম্যাচে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ছন্দ হারিয়ে ফেলেন তামিম। সাউথ আফ্রিকার পর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে সপ্রতিভ দেখা যায়নি। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ভালো ডেলিভারিতে আউট হলেও নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ভুলের কারণেই আউট হয়েছেন, শট নির্বাচন ছিল বাজে, সেটা মানছেন তামিমও।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের আগেরদিন ক্রিকইনফোকে তামিম বলেছেন, ‘প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না। আমি বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি প্রথম ম্যাচকে (সাউথ আফ্রিকা) হিসাব করছি না। কেননা, এটি ছিল (আন্দিলে ফেলুকোয়ওর) দুর্দান্ত ডেলিভারি। অন্য ম্যাচ দুটিতে নির্দিষ্ট বলে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি আমার দুটি ইনিংসের দিকে তাকান, বুঝতে পারবেন একটি ভুল করেই আউট হয়েছি।’

গত কয়েকবছর ধরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেয়া তামিম বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এসেই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছেন। তবে বাজে সময় পেছনে ফেলে দ্রুতই ছন্দে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী টাইগার ওপেনার, ‘আমি যতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করি, ভালোই খেলি। কিন্তু এরপর একটা ভুল করে ফেলি এবং আউট হয়ে যাই। এটিই ক্রিকেটে হয় এবং এর আগেও বিশ্বের সেরা অ্যাটাকের বিপক্ষে আমি এটি করেছি। যদি আমি না পারি তবে এটিও জীবনের অংশ।’

বিজ্ঞাপন

গত চার বছর ধরে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তামিম। ৫৭-এর বেশি গড় নিয়ে রান করেছেন সময়টাতে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে সেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজেন টাইগার ওপেনার। গত বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে মাত্র ১৫৪ রান করেছিলেন তামিম। এবারও নেই ছন্দে।

এমন বাজে পারফরম্যান্সের জন্য প্রত্যাশার চাপকেই দুষছেন তামিম। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে তামিমের পাশাপাশি তার পরিবারকে নিয়েও কটূক্তি করা হয়। যদিও সেসব আপাতত মনে করতে চাইছেন না বাঁহাতি ওপেনার।

‘আমার প্রত্যাশার কারণেই চাপ তৈরি হচ্ছে। ক্রিকইনফোতে যারা এটি পড়বেন, তারা কখনোই বুঝতে পারবেন না আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি। কিন্তু যারা আমার কাছের মানুষ, তারা জানে আমি কেমন বোধ করছি। আমি যদি ২০১৫ সালে ফিরে যাই, তবে দেখবো আমাকে অনেক ভুগতে হয়েছে এবং আমার স্ত্রী-পরিবারকেও। সেটি ছিল আমার জীবনের কালো অধ্যায়। আবারও বিশ্বকাপ খেলছি। চাই না ফের আমাকে এবং আমার পরিবারকে একই পরিস্থিতিতে পড়তে হোক। একটি কিংবা দুটি ভালো ইনিংস খেললেই মানুষ সব ভুলে যাবে।’

তিন ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ তামিম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ছন্দে ফিরতে মরিয়া। তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। তামিম নিজেকে মেলে ধরবেন, অপেক্ষা সেটিরই।