চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তামিমের ‘ক্যাপ্টেন্স নকে’ হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, সিরিজজুড়ে পেস-স্পিনে আমাদের বোলিংটা দারুণ হচ্ছে, আমাদের ব্যাটিংটায় উন্নতি করা দরকার। টপ অর্ডারে, বিশেষ করে টপ ফোরে, স্পেসালি আমার নিজের বড় ইনিংস খেলা উচিত।

কথার মতো কাজের কাজটা করে দেখিয়েছেন তামিম ইকবাল। ‘ক্যাপ্টেন্স নকে’ তার অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে জিতে জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডেতে তাদেরই মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ব্যাটে-বলে অনন্য নৈপুণ্যে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও শতভাগ সাফল্য এলো টাইগারদের মুঠোয়। প্রথম ওয়ানডেতে ১৫৫ রানের বিশাল জয়ে সিরিজ শুরু করে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেটের জয়ে ট্রফি নিশ্চিত করেছিল টাইগাররা।

জিম্বাবুয়ে: ২৯৮/১০ (৪৯.৩ ওভার), বাংলাদেশ: ৩০২/৫ (৪৮ ওভার)

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মঙ্গলবার তৃতীয় ওয়ানডেতে শুরুতে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে অলআউট হয়ে যাওয়ার সময় জিম্বাবুয়ে তোলে ২৯৮ রানের বড় সংগ্রহই। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৫ উইকেট আর ১২ বল অক্ষত রেখে জয়ে নোঙর ফেলে লাল-সবুজরা।

সঙ্গে আইসিসি ওয়ানডে লিগের অন্তর্ভুক্ত সিরিজটিতে ঘরে তুলেছে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হেসে টাইগাররা জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিয়েছে ১২ বছর পর। এবার হল তামিমদের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন পূরণও।

২০০৯ সালের পর জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়ে উঠছিল না বাংলাদেশের। ২০১৩ সালে অনেক আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হয়েছিল ২-১এ হারের হতাশা নিয়ে। এবার ব্যতিক্রম।

সিরিজে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন দাস। পরের ম্যাচে সাকিব আল হাসান খেলেন ম্যাচজয়ী অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস। লিটনের ওপেনিং পার্টনার তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করলেন তৃতীয় ম্যাচে এসে।

৮৭ বলে তিনঅঙ্ক ছুঁয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। ৪৬ বলে ছুঁয়েছিলেন ফিফটি। পরের ফিফটিতে লেগেছে ৪১ বল। অর্ধশতক ছোঁয়ার সময় নামের পাশে ছিল ৪ চার ও ২ ছয়, সেঞ্চুরির সময় আরও একটি ছক্কার সঙ্গে আরও ৪টি চার যোগ করেছেন।

লিটনের সাথে ৮৮, সাকিবের সাথে ৫৯, আর মিঠুনের সাথে ৫৭ রানের জুটি গড়ে তামিম শেষপর্যন্ত ফিরেছেন ১১২ করে, ৮ চার ও ৩ ছয়ে ৯৭ রানের ইনিংস। ট্রিপানোর বলে উইকেটের পেছনে চাকাভার গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন।

তার আগে বাঁহাতি ওপেনার তুলেছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম ওয়ানডে শতকটি। যা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চতুর্থ। দেশটির বিপক্ষে দেড়শ পেরোনো দুটি ইনিংসও আছে তামিমের।

তামিমকে আউটের পরের বলে রানের খাতা খোলার আগেই চাকাভার গ্লাভসে সেই ট্রিপানোর বলেই ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। তখন খানিকটা শঙ্কা চেপে বসেছিল পথ হারানোর।

কিন্তু মোহাম্মদ মিঠুন ও দীর্ঘ সময় পর ফেরা নুরুল হাসান সোহান বিপদ সামলে নেন। দুজনে জুটিতে যোগ করেন ৬৪ রানে। ৩০ করে বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ দেন মিঠুন।

সোহান ফেরা রাঙিয়েছেন অপরাজিত ৪৫ রানে, ৬ চারে ৩৯ বলের ইনিংস তার। আফিফ অপরাজিত থাকেন ১৭ বলে ২৬ রানে। লিটন ৩২ ও সাকিব ৩০ রান করে আউট হন।

সকালের অংশে মাঠে কঠিন সময় গেছে বাংলাদেশের। যখন ২৯৮ রানের চ্যালেঞ্জ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। শেষ ৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্রেন্ডন টেলরের দল অলআউট হয় ৪৯.৩ ওভারে।

রেগিস চাকাভা গড়ে দেন বড় সংগ্রহের ভিত। শেষে সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের ঝড়ো ফিফটিতে পুঁজি তিনশ’র কাছে নেয় স্বাগতিকরা। বার্ল ৪৩ বলে ৫৯ ও রাজা ৫৪ বলে ৫৭ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১১২ রান।

চাকাভাকে ৮৪ রানে ফেরাতে পারে বাংলাদেশ। তিনি ৯১ বলের ইনিংসে মেরেছেন সাতটি চার ও একটি ছয়।

৪৯তম ওভারে সাইফউদ্দিন ৩টি ও শেষ ওভারে মোস্তাফিজ একটি উইকেট তুলে নেয়ায় পুঁজি আরও বড় করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। সাইফউদ্দিন ৮ ওভারে ৮৭ রান খরচ করেন ৩ উইকেট নিতে। ফিজও নিয়েছেন ৩ উইকেট।

বাকিদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ ২টি, তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

বিজ্ঞাপন