চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তাইওয়ানের আকাশে আবারও চীনের যুদ্ধবিমান

তাইওয়ানের আকাশসীমায় আবারও ৫৬টি চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এটি এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশ।

বর্তমানে চলমান এই উত্তেজনার ‘মূল অপরাধী’ হিসেবে বেইজিংকে দায়ী করেছে তাইওয়ান। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে। তবে তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ভাবে।

গত ১ বছর ধরে চীনের বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে বারবার এমন অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছে তাইওয়ান।

শুক্রবার পর্যন্ত চীন তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে প্রায় ১৫০ বিমান পাঠিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চল একটি দেশের ভূখণ্ড এবং জাতীয় আকাশসীমার বাইরের একটি এলাকা। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি বিমান চিহ্নিত, পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি স্ব-ঘোষিত এবং প্রযুক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা।

তাইওয়ান সরকারের দেওয়া ম্যাপে বলা হয়, সর্বশেষ মিশনে ৩৪টি জে-১৬ যোদ্ধা বিমান এবং ১২টি পারমাণবিক বোমারু বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাইওয়ানের শীর্ষ চীনা নীতিনির্ধারক সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল(এমএসি) বেইজিংকে তাইওয়ানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্থিতাবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেছে।

বিজ্ঞাপন

এমএসির মুখপাত্র চিউ চুই-চেং এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বেইজিং কর্তৃপক্ষের এসব অশান্তিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন উস্কানিমূলক কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও যোগ করেন, তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য চীন দায়ী এবং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে। তাইওয়ান হুমকির কাছে ‘কখনো আপোষ করবে না’।

প্রতিক্রিয়ায় চীন ওয়াশিংটনের উপর উস্কানির অভিযোগ তুলেছে। দেশটির মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার সাথে জড়িত হওয়ার আর কোনো পরিণতি নেই। চীন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দৃঢ়ভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতার কোন চক্রান্ত ধ্বংস করবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন দৃঢ় সংকল্প।

তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন করা এবং ‘স্ফীত করা’ বন্ধ করা উচিত আমেরিকার বলেও মন্তব্য তাদের।

তাইওয়ানের করা মন্তব্যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে বেইজিং প্রায়ই এ ধরনের মিশন পরিচালনা করে।

১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে চীন এবং তাইওয়ানের আলাদা সরকার রয়েছে। জাতিসংঘ-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় তাইওয়ানের কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে চীন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য মিত্রদের সহায়তায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে তাইওয়ানও পিছিয়ে নেই।

সম্প্রতি দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে আবারো নিয়ন্ত্রণে পেতে চীন শক্তি ব্যবহারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করছে তাইওয়ান।

বিজ্ঞাপন