চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তবুও জীবিকার চেয়ে জীবনই বড়

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ‘অচল’ থাকার পর সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট খুলছে রোববার। শুরু হচ্ছে লঞ্চ-ট্রেন চলাচলও। তবে আরও একদিন পর চলবে বাস-মিনিবাস এবং অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান।

মূলত জীবিকার প্রয়োজনে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সীমিত পরিসরে এসব কার্যক্রম শুরুর কথা বলেছে সরকার। কেননা গত ২৬ মার্চ থেকে সাত দফায় ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন ধারণ কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থায় পৌঁছেছে। সরকার, বেসকারি প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তি উদ্যোগে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা। তাদের হাতে টাকা না থাকার কথা। ঘরে খাবার না থাকার কথা।

এমন অবস্থায় করোনাভাইরাস বিস্তারের বিপুল ঝুঁকি থাকার পরও বলতে গেলে বাধ্য হয়েই সরকার সবকিছু (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া) খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার কারণটাও সরকারের শীর্ষমহল থেকে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, জীবনের পাশাপাশি মানুষের জীবিকার কথাও ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তাই শর্তসাপেক্ষে অফিস, গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল ও বিমান চলালের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সবসময় মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আরও একটা বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে; কোনোভাবেই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণকে চলাচল করতে দেয়া হবে না।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করলাম, গত বুধবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানার পর থেকেই স্রোতের মতো মানুষ সারাদেশ থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। সেই স্রোত হয়তো আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। এর অর্থ হলো, শুরু থেকেই সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অন্যসব জেলায় মানুষকে আটকে রাখা গেল না।

আমরা আগেও দেখেছি, যখন স্বাস্থ্যবিধির কথা বলে রপ্তানিমুখি পোশাক কারখানা, দোকানপাট-শপিংমল খুলে দেয়া হয়েছিল; তখনও বহু মানুষ তার ধারের কাছেও যায়নি। সামাজিক দূরত্ব না মেনে, মাস্ক না পরে ইচ্ছামতো ভিড় করেছে দোকানে দোকানে।

আবার ঈদের আগে গ্রামে ফিরেছে গাদাগাদি, ঠেলাঠেলি করে। এবং তারা ফিরছেও একই অবস্থায়। আমাদের দুশ্চিন্তার জায়গাটাও এখানেই। কারণ অফিস খোলার ঠিক আগের দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনাভাইরাসে দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক (২৮ জন) মানুষ মারা গেছে গেল ২৪ ঘণ্টায়। এতে কারোরই বুঝতে বাকি থাকে না, দেশের করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

আমরা মনে করি, জীবনের জন্যই জীবিকা। সেই জীবনকে আগে নিরাপদে রাখতে হবে। আর তা করতে হলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নাই। প্রত্যেককে সেটা মেনে চলতেই হবে।