চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তনুর মা দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যুর পূর্বে যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছে ময়নাতদন্তকারী দল। তনু দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তারা তদন্ত সংস্থাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছে পারিপাশ্বিক প্রমাণ বিবেচনা করে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে হবে।

নিহত তনুর বহুল আলোচিত দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রবিবার সকালে প্রকাশ করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে করা তনুর কাপড় ও শরীরের ডিএনএ প্রতিবেদন দেয়া না দেয়া নিয়ে সিআইডি ও ফরেনসিক বিভাগের মধ্যে চলেছিল নানা নাটকীয়তা।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফরেনসিক বিভাগের কর্মচারী ফারুক আহমেদ সিলগালা করা একটি খাম নিয়ে কুমিল্লা পুলিশ ভবনে অবস্থিত সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে দিয়ে আসেন। এটি গ্রহণ করেন সিআইডির এএসআই মোশাররফ হোসেন। আদালতের নির্দেশে গত ৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় তনুর শরীর ও কাপড়ের ডিএনএ প্রতিবেদন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তনুর মৃত্যু পূর্বে ‘এভিডেন্স অব সেক্সচ্যুায়াল ইন্টারকোর্স’ হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে অধিকতর তদন্তে ‘সারকমসট্যান্স এভিডেন্স’ বিবেচনায় নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, তনুর মৃত্যুর ১০ দিন পর পুনরায় ময়নাতদন্ত হয়েছে, এ সময়ে তার মরদেহ পচাগলা ছিল। এ কারণে এ মৃতদেহে নতুন করে আঘাত বোঝা সম্ভব হয় নি। তিন সদস্যের ময়নাতদন্ত দলের অপর সদস্য ডা. ওমর ফারুক জানান, মৃত্যুর কত পূর্বে ‘সেক্সচ্যুায়াল ইন্টারকোর্স’ হয়েছে তা জানা যায় নি। এর আগে গত ১৬ মে সিআইডির পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান জানিয়েছিলেন, তনুর পরনের কাপড় পরীক্ষা করে তাতে তিনজন পুরুষের বীর্য পাওয়া যায়। এ থেকে তিনজন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।

এ দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সেনানিবাসের কোন একটি বাড়িতে তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ এনে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে পর্দানশীন। নামাজ কালাম করে। প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় হিজাবটা একঘন্টা ধরে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা যে কথা বলেছে তা যদি হয়ে থাকে তাহলে তা জোর করে হয়েছে।

আনোয়ার বেগম বলেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা যখন সেনানিবাসে আমার বাসায় গিয়েছিল তখন আমি বলেছি আমার মেয়ের নাকে আঘাত, মাথায় আঘাত, শরীরে বুটের পায়ের দাগ, বুটের পারায় পায়ের রানের মাংশ থেতলে গেছে। কিন্তু তারা এ সব কিছুই দেখে নি। তারা মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে।

আনোয়ারা বেগম বিস্ময় প্রকাশ করে আবারো বলেন, তিনটি গান না করায় গাড়ি দিয়ে নিয়ে গিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেললো। আমি সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে করুণা ভিক্ষা করে আবেদন জানাচ্ছি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার করুন।

আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এখন আমাকে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমাকে সেনানিবাস থেকে চলে যেতে হবে। আমি কেন যাবে। আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত দিক, আমি তারপর সেনানিবাস থেকে চলে যাবো। বলা হচ্ছে আমার স্বামীর চাকরি চলে যাবে। সে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকুরি করে বলে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ। এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ২১ মার্চ প্রথম ময়ানাতদন্তে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্ট দেয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয় এবং আদালতের নির্দেশেই তনুর পরিহিত কাপড়চোপরসহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।