চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তথৈবচ জীবন এখন, তবুও সুবোধরা পালাতে পারে না

দুনিয়া কতটা বদলেছে তার হিসেবে করলে পজিটিভ ভাবনাগুলো হোঁচট খায়। করোনা ভাইরাস আছে কি নেই- তার সদুত্তর পাওয়া মুশকিল। তবে এ ভাইরাসের সাথে বসবাস করতে হবে এটাই বাস্তবতা। নিয়তির বিধানকে মেনে নিয়ে মানুষ বাঁচার তাগিদে উপেক্ষা করছে কোভিড- ১৯ কে। বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরবন্দি জীবন মানুষের পৃথিবীতে অসম্ভব তাই প্রমাণ করেছে এ ভাইরাস। যতই প্রযুক্তি নির্ভর হোক বিশ্ব, তবুও যাপিত জীবনে সকল কর্ম ডিজিটালে সম্ভব নয় এটাই প্রমাণিত সত্য।

করোনা পরবর্তী জীবনে সারা বিশ্ব স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। কিন্তু পুনরায় কোভিডের আক্রমণ নিয়ে শঙ্কিত বলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সহজ হচ্ছে না। এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন কবে আবিষ্কার হবে তা বলা মুশকিল। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে কোভিড-১৯ থেকে পরিত্রাণ পেতে। কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় না করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষ শঙ্কিত। সীমিত পরিসরে এখন আর কিছু নেই। বিধি নিষেধ যেমন মানছে না তেমনিভাবে কমছে টেস্টের পরিমাণ। অন্যদিকে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তির রক্ষা করতে গিয়ে হয়রানিতে পড়ছে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। করোনা ভাইরাসের টেস্ট করতে গিয়ে বিদেশ যাত্রীদের হয়রানি হতে হচ্ছে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতার কারণে।
করোনা ভাইরাস আজ না হয় কাল চলে যাবে। কিন্তু দেশের মানুষের আর্থিক সংকট জটিল আকার ধারণ করছে। কেউ চাকরি হারিয়েছে, কেউ বেতন পাচ্ছে না। আবার কেউ ব্যবসার লোকসান পুষিয়ে নিতে না পেরে দিশেহারা। ভবিষ্যতের সঞ্চিত অর্থ ভেঙ্গে জীবনটা বাঁচিয়ে রাখছে কোনভাবে। অর্থ ছাড়া জীবন অচল। করোনা ভাইরাস সমাজের মন্দকে কমিয়ে দিতে পারেনি। বরং একটা অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছে সামগ্রিকভাবে। যে সমাজ থেকে বিবেক বোধ ও দায়িত্ববান সুবোধরা চাইলেও পালাতে পারবে না। পরিবার পরিজন সন্তানের মুখের অন্ন, থাকার জন্য বাসস্থানের, চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর দায়কে অস্বীকার করে পালাতে পারে না সুবোধরা। করোনা ভাইরাস মানুষকে চরম এক পরীক্ষার সম্মুখীন করে দিয়েছে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে কেবল মানসিক শক্তি থাকলে চলে না। তার সাথে আর্থিক সংগতি বিবেচ্য।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বর্তমান সময়ে কোনভাবে সামাজিক অবস্থানকে সমন্বয় করে চলা মধ্যবিত্ত নামধারী পরিবারগুলোর জীবন তথৈবচ। তাদের কাছে করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর আর্থিক দৈন্যতা। তিন মাসের লকডাউনের কারণে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গিয়েছে অনেকে। সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়ানো ও অনেকের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। খেয়ে পরে বাঁচার সাথে মানসিকভাবে হতাশা গ্রাস করেছে ক্রমশ এ শ্রেণির মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একটা মহামারির ছাপ দীর্ঘদিন রয়ে যায় দেশে নানাভাবে। তবে এবারের কোভিড-১৯ এর মহামারিতে মানবতার নামে দুর্নীতি দেখে মনে হয়েছে, ‘মানুষের বিবেক পরাজিত।’ মৃত্যু, রোগকে পুঁজি করে অর্থের পাহাড় গড়েছে এক শ্রেণি। আর এক শ্রেণি বাঁচার তাগিদে দিশেহারা হয়ে রাস্তায় নেমেছে কাজের আশায়।

কারণ তাদের বিবেক আর মন কাঁদে অসহায় সন্তানের মুখ দেখে। তাই সমাজের এ বৈষম্য তাতে সুবোধরা কেবল গিনিপিগ হয়ে বেঁচে থাকে কালে কালে। চাইলেও পালাতে পারে না। কারণ তাদের বিবেক এখনো জাগ্রত বলে তারা অমানুষ হতে পারেনি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)