চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পুন:ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ১৯টি কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ৪শ ৬৩ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৬শ ১৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক সাদেকা হালিম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ, ফার্মেসী অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট পূর্বে কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র ঢুকতে না দেওয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক ভর্তিচ্ছুকে পরীক্ষার ৩০ মিনিট পূর্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর পনেরো মিনিট আগে কলা ভবনের মূল ফটকে এলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ঢুকতে বাঁধা দেয়। ঢুকতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি করে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে চাইলে গেটের কাঁচ ভেঙে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। ধাক্কাধাক্কিতে এক অভিভাবকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অবশ্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন হয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষাথীকে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। প্রশ্নপত্র রেখে দেওয়া হয়েছে। আল জুবায়ের হক মাসুম নামের এক শিক্ষার্থী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এবারের প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি কঠিন হয়েছে সাধারণ জ্ঞান অংশের আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলী। প্রশ্ন রেখে দেওয়ায় উত্তর মেলাতে পারছি না। ভর্তির সুযোগ পাবো কিনা বলতে পারছি না’।

প্রশ্নপত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, এটা ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয়কারী কমিটির সিদ্ধান্ত। এখন থেকে প্রতিবছর প্রশ্নপত্র রেখে দেওয়া হবে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র রেখে দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একে এম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টায় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছিলো। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।