চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাবিতে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

দীর্ঘ ২৬ বছর পর সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি

২০১৯-২০ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় তিন দশক পরে ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ সিনেটে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়।

এবছর বাজেটের আকার বাড়লেও কমেছে গবেষণা খাতে বরাদ্দ। গবেষণা খাতে এ বছর বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ২.১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবছর বাজেটের আকার ৯.৩৫ শতাংশ বাড়লেও (৬৯ কোটি ২৯ লাখ) বাড়লেও গবেষণায় বরাদ্দ কমছে ২.৮৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেট অধিবেশনে এই বাজেট পাশ হয়।

বাজেট পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন। এছাড়াও অধিবেশনে সিনেট চেয়ারম্যান ও উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজজামান ও সিনেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এবছর বাজেটে বেতন ও ভাতাদি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ৫৫.৮২ শতাংশ, পণ্য ও সেবা বাবদ ব্যয় রাখা হয়েছে বাজেটের ২১.১৯ শতাংশ, বিশেষ অনুদান খাতে ১.৩১ শতাংশ, অন্যান্য অনুদান খাতে ২১.৬৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যান্য বছর গবেষণা খাতে আলাদা করে বরাদ্দ করা হলেও এবছর পণ্য ও সেবা খাতে এবং অন্যান্য অনুদান খাতের আওতায় এনে গবেষণার জন্য মোট ব্যয়ের ৫.০৪ শতাংশ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে পণ্য ও সেবাখাত বাদ দিয়ে শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ২.১ শতাংশ।

বাজেটে আয়ের উৎস হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুদান ও নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বছর ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে ইউজিসি থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ৬৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের তাগিদ
বুধবার বাজেট ঘোষণা শেষে সিনেট অধিবেশনে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন সিনেটের শিক্ষক প্রতিনিধি ও কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।

অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই আদর্শকে ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশকে সমুন্নত রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, উপাচার্য যেভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেট গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন ঠিক তেমনিভাবে দ্রুত উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

প্রায় তিন দশক পর সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি
ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় দীর্ঘ ২৬ বছর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া তুলে ধরতে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি সিনেটে উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ ছাত্র প্রতিনিধি হলেন, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, জিএস গোলাম রাব্বানী, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি ছিলেন।

বুধবার সিনেট অধিবেশনের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া সিনেটে তুলে ধরেন ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। পাঁচ ছাত্র প্রতিনিধি সিনেটে উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিনে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী বক্তৃতা রাখেন।

গোলাম রাব্বানী বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সিনেটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের আধুনিকায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাজ অটোমেশনের আওতায় আনা, সাত কলেজ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের হয়রানি কমানো, কর্মচারীদের কাজের পরিধি নির্ধারণ, চারটি হলের কেয়ারটেকার নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Bellow Post-Green View