চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ও মৃত্যু বেশি

জাতীয় পরামর্শক কমিটির নির্দেশনা মানার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

Nagod
Bkash July

দেশে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও শনাক্তের হার বাড়ছে। পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের ঘোষিত বিধিনিষেধ মানাসহ কোভিড আক্রান্ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগীদের দ্রুততার সঙ্গে জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এসময়ে দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৩৫৯ জন। ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৭ জন। আর ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৮৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যুর মধ্যে আটজনই রাজধানী ঢাকার।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় করোনার অতিসংক্রমণশীল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের গুচ্ছ সংক্রমণ চলছে। গুচ্ছ চিহ্নিত করে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তা সারাদেশে দ্রত ছড়িয়ে পড়বে।

ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সিকুয়েন্সিং সুবিধা না থাকায় আমাদের এখানে ওমিক্রনের হার বোঝা যাচ্ছে না। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে কত শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত তা জানতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের জিনোম সিকুয়েন্স করাতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১২ শতাংশ ছাড়িয়েছে । পশ্চিমবঙ্গে এই হার ২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সেখানে ৭০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। তাই রাজধানী ও সারাদেশে কত শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী আছেন সেটা জানতে জিনোম সিকুয়েন্সিং করা খুবই জরুরী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮৫ জনের মধ্যে ফরিদপুরে শনাক্ত হয়েছেন পাঁচজন, গাজীপুরে ১৬ জন, গোপালগঞ্জে চারজন, কিশোরগঞ্জে পাঁচজন, মাদারীপুরে একজন, মানিকগঞ্জে তিনজন, মুন্সিগঞ্জে চারজন, নারায়ণগঞ্জে ২৫ জন, নরসিংদী ১৪ জন, রাজবাড়ী দু’জন, শরিয়তপুরে একজন ও টাঙ্গাইলে পাঁচজন।

এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৩৪৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮১ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪ জন ও সিলেট বিভাগে ৬১ জন।

‍ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন বলেন, যেহেতু শনাক্ত বাড়ছে, তাই হাসপাতালে রোগী বাড়বে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরামর্শক কমিটি যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো সবাইকে মানতে হবে। অন্যথায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে জনগণকে বাধ্য করতে হবে। এ ছাড়া অনেকেই ভ্যাকসিনের এসএমএস দেরিতে পাচ্ছেন। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

ডা. মো. রোবেদ আমিন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও অসংক্রামক রোগী বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, ‘সংক্রমণ হঠাৎ করে মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে, নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট তারই সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। গত সাত দিনে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

তবে গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার পর থেকে এটি ক্রমাগত বাড়ছে। এটি শুধু একই ধারায় বাড়ছে তেমন নয় বরং প্রোগ্রেসিভলি বাড়ছে। যেটি আমাদের জন্য অ্যালার্মিং। পুরো ডিসেম্বরে ৪ হাজার ৫৮৮ রোগী আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি, সেখানে জানুয়ারির মাত্র ১১ দিনে ১২ হাজার ৮৫০ জন রোগী ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে।’

 

BSH
Bellow Post-Green View
Bkash Cash Back