চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকায় সফল, এবার চট্টগ্রামে কিউয়ের ‘নবারুণ’

‘যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায়, আমি তাকে ঘৃণা করি/ যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে, আমি তাকে ঘৃণা করি/ যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী/ প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না, আমি তাকে ঘৃণা করি’। প্রতিবাদ আর ক্ষোভে ফুঁসে উঠে কবিতায় যিনি বজ্রকণ্ঠে বলতে পারতেন, ‘এই মৃত্য উপত্যকা আমার দেশ না’-তিনি নবারুণ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ও কথাসাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য। কমিউনিস্ট ধারার এই সাহিত্যিকের লেখা থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এরমধ্যে বিশেষ করে ‘হারবার্ট’ ও ‘কাঙাল মালসাট’ অন্যতম। এদিকে তাঁর জীবন যাপন নিয়েও চেনা ছকের বাইরের এক অন্যরূপ ফুটে উঠেছে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ামে!

বিজ্ঞাপন

আর এই কাজটি করেছেন ‘তাসের দেশ’ ও ‘গান্ডু’ খ্যাত কলকাতার নির্মাতা কৌশিক মুখার্জী। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যিনি কিউ নামেই বেশি পরিচিত। নবারুণকে নিয়ে তার বানানো ডকুমেন্টারিটি ঢাকায় দেখানো হয়েছে শনিবার বিকালে। যার আয়োজনে ছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন চলচ্চিত্র আন্দোলন ও লিটল ম্যাগ ‘ডানার করাত’।

কথাছিলো ঢাকায় ‘নবারুণ’-এর একটিমাত্র শো হবে, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিকাল ৫ টার শোতে মিলনায়তনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অনেককেই এসময় দেখা যায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে ‘নবারুণ’ দেখছেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে আজিজ সুপার মার্কেট এর শর্টফিল্ম ফোরামের মিলনায়তনের চারপাশ ‘নবারুণ’ দেখতে আগ্রহী দর্শকে ভিড় জমে যায়। তখন আয়োজকরা দ্বিতীয়বার ‘নবারুণ’-এর শো করার সিদ্ধান্ত নেন।

এসময় কথা হয় কিউয়ের ‘নবারুণ’ চলচ্চিত্রটির গবেষণা-সহযোগী, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী সুরজিত সেনের সঙ্গে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটি নিয়ে ঢাকার দর্শকের এমন আগ্রহে নিজের ভালো লাগার কথা জানান।

এদিকে ঢাকায় ‘নবারুণ’-এর প্রদর্শনীর জন্য আয়োজক ‘ডানার করাত’-এর সম্পাদক মাহবুব হাসান বলেন, চলচ্চিত্রটির সফল প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন চলচ্চিত্র আন্দোলন, অডজয়েন্ট ও বোধশব্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। মিলনায়তনের জন্য ধন্যবাদ  জানান শর্টফিল্ম ফোরামকেও।

এদিকে ঢাকায় সফল দুই প্রদর্শনীর পর এবার কিউয়ের নবারুণ নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন সুরজিত সেন। আগামী বৃহস্পতিবারর(২৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের বিস্তার আর্টস কমপ্লেক্স এর সভাকক্ষ ’পরম্পরা’য় দেখানো হবে।

২০১২ সালে ‘নবারুণ’ তথ্যচিত্রটির কাজ শুরু করেছিলেন কিউ। তখন কলকাতার গণমাধ্যমে এই তথ্যচিত্রটি নিয়ে নির্মাতা বলেছিলেন, আমি যে নবারুণের ওপর তথ্যচিত্র বানাবো সেটাই তো স্বাভাবিক৷ একদিন মনে হল, ‘আরে! এটাই তো আমার করা উচিত৷ এতদিন করিনি কেন?’ এখন মনে হয়, ভাগ্যিস! আমার জীবনের অন্য সব কিছুর মতো এটা দেরি করিনি, সময়মতো শুরু করেছিলাম। অন্তত এটাতে কিছুটা সেন্স কাজ করেছে! নবারুণদা আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন কথাটা শুনে। আমার কাজ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিলো। আমারই খারাপ লাগছে যে উনি শেষ কাজ দেখে যেতে পারলেন না৷

২০১৪ সালের ৩১ জুলাই মৃত্যু বরণ করেন সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী ও বিজন ভট্টাচার্যের পুত্র নবারুণ ভট্টাচার্য।

Bellow Post-Green View