চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকায় জানাজা শেষে নোয়াখালীর পথে ব্যারিস্টার মওদুদের মরদেহ

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ এবং এরপর নয়াপল্টনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর নিজ জেলা নোয়াখালীর পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার নয়াপল্টনে জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। জানাজায় অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মওদুদ আহমদের জানাযায় অংশ নিতে সকাল থেকে নয়াপল্টনে হাজির হোন সাধারণ মানুষ। এক পর্যায়ে কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত উপস্থিতি দেখা যায়।

জানাজার আগে মরদেহ সামনে নিয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, মওদুদ আহমদ ছিলেন একজন কিংবদন্তী। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী। তিনি পরিবর্তনের পক্ষে সব সময় কাজ করতেন। সে পরিবর্তন হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তার চলে যাওয়ায় দেশে একটি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। আজকে আমাদের যে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কঠিন দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি মওদুদ আহমদের চলে যাওয়ায় তা আরও বেশি অনুভব করবো।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রধান বিচারপতিসহ আইনজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে ব্যারিস্টার মওদুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে আনা হয় নয়াপল্টনে।

পৌনে ১২টায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে নেয়া হবে মওদুদ আহমদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। বাদ জুমা কবিরহাট সরকারি কলেজ মাঠ ও বিকেল চারটায় কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে দুটি জানাজা হবে। মানিকপুরে শেষ জানাজার পর তাকে সেখানেই দাফন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয় ব্যারিস্টার মওদুদের মরদেহ। এরপর রাত ১০টার দিকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

১৬ মার্চ শারীরিক অসুস্থ নিয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ড এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলতি সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিলো।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (১৯৮৮-১৯৮৯)। এর আগে উপ-রাষ্ট্রপতি, উপ-প্রধানমন্ত্রী (১৯৭৬-১৯৭৮ এবং ১৯৮৭-১৯৮৮) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। অষ্টম জাতীয় সংসদে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।