চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকার জন্য টেকসই নগর খাদ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আইসিএলইআই সাউথ এশিয়া, ব্র্যাক নগর উন্নয়ন কর্মসূচি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ঢাকার জন্য একটি টেকসই নগর খাদ্য ব্যবস্থা পরিকল্পনার বিষয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করেছে।

এই বছরের শেষের দিকে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন ২০২১ (Food Systems Summit 2021) আয়োজন করতে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এফএও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সংলাপের আয়োজন করছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি প্রদানের জন্য এই শীর্ষ সম্মেলন যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা স্বাস্থ্যকর, টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। এই সংলাপগুলো জনগণকে আলোচনা, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এই সংলাপে বক্তব্য রাখেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনাব খাজা আব্দুল হান্নান, এই অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন।

এফএও এবং আইসিএলআই যৌথভাবে খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা এবং এই সংলাপের আলোচ্য বিষয়গুলো উপস্থাপন করে।

বিজ্ঞাপন

‘ঢাকা ফুড সিস্টেম’ প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার জন টেলর বলেন, ঢাকার জন্য একটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা থাকলে নগরীতে প্রত্যেকের জন্যই পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে শহরের দরিদ্রদের জন্য বিশেষ মনোযোগ এবং সুনির্দিষ্ট নীতির প্রয়োজন আছে। কেবলমাত্র পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাবার নয়, প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবারটুকু নিশ্চিত করাটাও দরিদ্রদের জন্য কঠিন। তাই তাদের জন্য পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের বিশেষ নীতিমালার প্রয়োজন আছে।

এরপর একই সময়ে ৫টি আলাদা আলোচনার আয়োজন করা হয়, যার বিষগুলো ছিল;
১। সকলের জন্য নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা
২। টেকসই খাদ্যাভ্যাসের প্রসার
৩। ন্যায়সঙ্গত জীবিকার প্রসার
৪। বিপদাপন্নতা, প্রতিঘাত, এবং চাপের বিরুদ্ধে ক্ষমতা বৃদ্ধি
৫। নগর দরিদ্রতা এবং খাদ্য সুরক্ষা

পরবর্তীতে সবগুলো আলোচনা থেকে প্রাপ্ত মতামত উপস্থাপন করা হয় এবং এর উপর একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে এই সংলাপগুলো আয়োজনে সহায়তা করছে যার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি তৈরি করতে সুবিধা হবে। নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে এফএও’র ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পটি ঢাকার চারটি সিটি কর্পোরেশন (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ) – এর কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত নগর কার্যনির্বাহী গ্রুপের সভার আয়োজন করে। এই সভাগুলোর আলোচনার ভিত্তিতেই আজকের সংলাপের বিষয়গুলো নির্বাচন করা হয়েছে।

ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পটি খাদ্য ব্যবস্থায় বাজারের ভূমিকা নিয়ে আগামী সপ্তাহে আরও একটি সংলাপের আয়োজন করবে। এ প্রকল্পটি ঢাকার চারটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রথমবারের মতো খাদ্য সনদ (ফুড চার্টার) তৈরির জন্য বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে। খাদ্য সনদগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন খাবারের নিশ্চয়তা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কৌশল নির্ধারণ করবে।

খাদ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন কেন?
‘খাদ্য ব্যবস্থা’ শব্দটি খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন এবং খাদ্য গ্রহণে জড়িত সমস্ত কার্যক্রমকে বোঝায়। খাদ্য ব্যবস্থা মানুষের অস্তিত্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পর্শ করে। আমাদের খাদ্য ব্যবস্থার হাল আমাদের জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের পরিবেশ, আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের সংস্কৃতিগুলোর ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে কাজ করলে আমাদের খাদ্য ব্যবস্থাগুলো পরিবার, সম্প্রদায় এবং জাতি হিসাবে আমাদের একত্রিত করার ক্ষমতা রাখে। তবে বিশ্বের অনেকগুলি খাদ্য ব্যবস্থা এই মুহূর্তে ভঙ্গুর এবং ধসে পড়ার ঝুঁকিতে আছে, কারণ বিশ্বজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মানুষ সরাসরি করোনা মহামারি সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। যখন আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তা আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির পাশাপাশি মানবাধিকার, শান্তি এবং সুরক্ষার জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। যেমন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, যারা ইতোমধ্যে দরিদ্র, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।