চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকার গণপরিবহনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হবে কবে

ঢাকার গণপরিবহনের চিত্র দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে অত্যন্ত বেমানান। একদিকে মেট্রোরেলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রাস্তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, আরেকদিকে ঢাকায় চলা বেশির ভাগ বাস-মিনিবাস বাইরে থেকে দেখতে রংচটা ও লক্কড়ঝক্কড়। পেছনের লাইট-ইন্ডিকেটর নেই। ভেতরে আসনের তেল চিটচিটে আচ্ছাদনে যে কারও গা গুলিয়ে আসবে। দাঁড়িয়ে যেতে হয় গাদাগাদি করে।

এসব নিয়ে নানা সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে, এখনও হচ্ছে। তবে শুধু বেসরকারি পরিবহন নয়, রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বাসের দশাও পরিবর্তন হয়নি। এতে প্রতীয়মাণ হয় যে, ঢাকার বাস চলাচলের অনুমোদন থেকে এর পরিচালনা পদ্ধতি—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের গলদ আছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে যে কেউ কোম্পানি খুলে যেকোন পথে বাস নামাতে পারেন। এরপর কোম্পানির উদ্যোক্তারা শুরু করেন চাঁদাবাজি। মালিক চুক্তিতে চালক-শ্রমিকদের হাতে বাস ছেড়ে দেন। তারা বেশি টাকার আশায় রাস্তায় অন্য বাসের সঙ্গে রেষারেষি করেন। ফলে নতুন বাসও কয়েক মাসের মধ্যে রংচটা হয়ে পড়ছে। একইসাথে সড়কে ঘটে দুর্ঘটনা। এর বলি হয় সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, বাসে আসন থাকবে ৫২টি, মিনিবাসে ৩০টি। দুটি আসনের হেলান দেওয়া স্থানের দূরত্ব হবে ২৬ ইঞ্চি। কিন্তু ঢাকার পরিবহনমালিকেরা ইচ্ছেমতো আসন বসিয়েছেন। ফলে যাত্রীরা পা সোজা করে বসতে পারেন না। এগুলোর কিছুই মানা হচ্ছে না। এসব অনিয়মের কোনো তদারকি নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনিসুল হক বাস-ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেটা আর হালে পানি পায়নি। এখন সর্বশেষ সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা চাওয়া হবে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে অন্তত একটি রুটে নতুন পদ্ধতিতে বাস চালু করতে চান ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্তমান মেয়র।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার করা সমীক্ষা অনুসারে, ঢাকায় দিনে ৫৮ লাখ বারের বেশি যাতায়াত হয় বাস-মিনিবাসে। এ সংখ্যা যান্ত্রিক যানবাহনে যাতায়াতের ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। রাজধানীর সব রুটেই প্রচুর যাত্রী আছে। ভাড়াও নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ বেশি। তবু ঢাকার বাসের এই করুণ দশা কেন?

আমরা মনে করি, এই বিষয়টিতে সরকারের মনোযোগ দেয়া দরকার। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তের ঢাকায় সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত ও অসহনীয়। সাধারণ মানুষের এই কষ্টের দিকে নজর দেয়া দরকার। নতুবা সরকারে সকল উন্নয়ন হাস্যকর হয়ে উঠবে। পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে লিখলে অভিযোগ হবে পাহাড় সমান। তার অধিকাংশই সরকারের সদিচ্ছায় সমাধান সম্ভব। আমরা অন্যান্য সমস্যার কথা বলছি না। কারণ সেগুলো সরকারের কয়েকটি নীতি পরিবর্তন ও কঠোর আইন প্রয়োগেই সমাধানের পথ দেখবে।