চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ড. কামাল হোসেনের দুঃখ প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জামায়াত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে ‘খামোশ’ বলে তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

১৪ ডিসেম্বর দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন: প্রত্যেক বছরের মত এবারও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুরের স্মৃতিসৌধে গিয়েছি আমি। এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যার মধ্যে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও ছিলেন।

তিনি বলেন: ১৯৭১ থেকে ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত আইনগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারা আমার কাছে সর্বদাই বিশেষ আবেগ-অনুভূতির বিষয়। আমি বিশ্বাস করি সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যান।

‘১৪ ডিসেম্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিসৌধের বেদীতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম আমরা কত মেধাবী সন্তানদের হারিয়ে তবে স্বাধীনতা পেয়েছি।

তখন হঠাৎ করেই আমার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হল। আমি তাৎক্ষণিকভাবে সবিনয়ে বলি আজকের এই দিনে যেখানে আমাদের গভীর অনুভূতির বিষয়, এই বিষয়ে এখানে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পুনরায় একই প্রশ্ন তুললে আমি একই মনোভাব ব্যক্ত করি।

কিন্তু তৃতীয়বার ভীড়ের মধ্য থেকে কোথাও দুই থেকে তিনবার আমি শুধু জামায়াত জামায়াত শব্দ শুনতে পাই। আমার খুবই খারাপ লেগেছিল এবং আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম আমার বক্তব্য কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকে তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’’

ড. কামাল বলেন: সকলে অবগত আছেন যে আমি সারা জীবন সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল থেকেছি। আশা করি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানগণ তাদের জীবনের বিনিময়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আমরা সকলে মিলে গড়তে সক্ষম হব।

এর আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামাল বলেন: স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, লোভ লালসা নিয়ে লুটপাট করছে, তাদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত আমরা করবই। যত শক্তিধর হোক তারা, দেশের মালিক জনগণের কাছে তাদের নত হতে হবে, তাদের পরাজয় হবেই।

এসময় সাংবাদিকরা স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কামাল বলেন: শহীদ মিনারে এসব বিষয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না।

এরপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকেন। একজন বলেন: জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে।

ড. কামাল সেসময় রেগে গিয়ে বলেন: প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বল। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে শহীদ মিনারকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। আশ্চর্য!

এসময় পাশে থাকা দু’য়েকজন নেতা ড. কামালকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক এসময় প্রশ্ন চালিয়ে গেলে ধমক দেন ড. কামাল।

তিনি বলেন: ‘শহীদদের কথা চিন্তা কর। হে হে হে হে করছে! শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ।’

এরপর ড. কামাল বলেন: ‘আশ্চর্য! তোমার নাম কী? কোন পত্রিকার? টেলিভিশন, জেনে রাখলাম।’

এই ঘটনার ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার শিকার হন ড. কামাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা।