চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ড. কামালের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আপত্তিকর: পুলিশ

পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তার এই বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আপত্তিকর ও অবিবেচনাপ্রসূত।

বুধবার রাতে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশ পুলিশকে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। এ সংবাদ বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডিএমপি কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সাথে নির্বাচন ভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এক পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বলেন, ‘আপনি ইচ্ছা করলে জানোয়ার-লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনীকে’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনার এই লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী আমাদের মিটিং-মিছিল কিছুই করতে দিচ্ছে না।’’

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, ‘তার এই বক্তব্য অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এ ধরণের আপত্তিকর, অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মতো জননিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার মতো অপপ্রয়াস নেয়া হয়েছে।’

পুলিশ বলছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। তাই ড. কামাল হোসেনের মতো মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের নিকট হতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য জাতির মনে ভিন্ন চিন্তার উদ্রেক করে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরাপদ পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর অর্পিত হয়েছে। নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই জন্য পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচন সামগ্রী প্রেরণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার সদস্য দেশব্যাপী নিয়োজিত হয়েছে।

এমন মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশকে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরির অপচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ ত্যাগ, পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।

তাই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবলে আঘাত হেনে বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টির যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।’’

বিজ্ঞাপন