চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ডোন্ট কেয়ার ভাবটাই একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে’

নৈরাশ্যবাদে আমি বিশ্বাস করি না…

প্রায় আড়াইমাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন কিংবদন্তী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। বার্ধক্যজনিত একাধিক রোগে আক্রান্ত ৮০ বছর বয়সী এই অভিনেতা হাসপাতালের বিছানায় বসেই বললেন, ‘অসুখ বিসুখকে খুব একটা কেয়ার করি না, ডোন্ট কেয়ার ভাবটাই একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।’ 

সম্প্রতি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরী ছুটে গিয়েছিলেন এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে। তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। সেখানে কবরীর সঙ্গে আলাপকালে এটিএম হাসিমুখে একথা বলেন। তিনি এও বলেন, বিপদ আপদ, ভালমন্দ নিয়েই জীবন। সবকিছুই মেনে নিতে হবে।

এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ডোন্ট কেয়ার ভাবটাই একটা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তিনি বলেন, আমি ভীষণভাবে অপটিমিস্ট। নৈরাশ্যবাদী চিন্তাধারার মধ্যে আমি নেই, নৈরাশ্যবাদ আমি বিশ্বাসও করিনা। আমার জায়গায় অন্যকেউ হলে নৈরাশ্যবাদী হয়ে যেত।

কবরীর সঙ্গে আলাপে দেশবরেণ্য এই অভিনেতা জানান, তার তিন মেয়ে। তারমধ্যে একজন মেয়ে তার সমস্ত খাবার পাঠিয়ে দেন হাসপাতালে। বলেন, আস্ত কাতল মাছের মাথা খেয়েছেন। তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। কথা প্রসঙ্গে এটিএম বলেন, একজন মানুষের সৌভাগ্য হলো তার মেয়ে সন্তান থাকা। আরও বলেন, আমি আমার মায়ের প্রতি যতটা সহানুভূতিশীল এখনকার ছেলেমেয়ে তার মায়ের প্রতি এতো সহানুভূতিশীল? মায়ের নাম বলতে আমি অজ্ঞান। মা ই আমার নাম রেখেছিলো খোকা।

গত ১৫ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। এর আগে, মলমূত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার রাতে অসুস্থ বোধ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। ওই সময় শ্বাসকষ্টও শুরু হয় তার। এরপর সেদিন রাত ১১টায় পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বর্ষীয়ান অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানকে।

পরে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে তার ফুসফুসে অস্ত্রোপচার করা হয়। ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় তার। এরপর ৩০ এপ্রিল তাকে প্রথম লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে লাইফ সাপোর্ট খুললে আবারও অসুস্থবোধ করেন তিনি। ৬ মে দ্বিতীয়বারের মত তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

এদিকে, গত ১৩ মে এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অভিনেতার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন: