চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিক?

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। কোনো কোনো স্থানে তা মৃত্যুতে গড়িয়েছে। এই অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে– তা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

সাধারণত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে ডেঙ্গু মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এ বছর মে মাসের শুরু থেকেই এর প্রকোপ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার ব্যাপক উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। তারপর থেকেই প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী। আর তারপরই নড়েচড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

এমন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, সবকিছু জানার পরও আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নেয় না কর্তৃপক্ষ। যখন কোনো বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়, তখনই অনেকের কর্ম-তৎপরতা শুরু হয়ে যায়; তার আগে নয়। কিন্তু সেই শুরুতে খুব একটা ফল আসে না। তাদের কারণে ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকেই।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে আমরা জেনেছি,  গত বছর দেশে ১০ হাজার ১৪৮ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে মারা যায় ২৬ জন। এই সংখ্যা ১৫ বছরর আগে ডেঙ্গু আক্রান্তের রেকর্ড ভেঙে দেয়। ওই বছর ৬ হাজার ২৩২ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য এসেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে গত বছরের আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে এই বছর। অথচ এ জন্য প্রস্তুতি কতটুকু? সেটাই জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আমাদের প্রশ্ন, ডেঙ্গুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও যদি কর্তৃপক্ষ ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়’ তাহলে মানুষের নিরাপত্তা দেবে কে? অথচ মশক নিধনের নাম করে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখায় সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বাস্তবে তার ফলাফল কি? যদি মশক নিধনের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করা হতো, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে কেন?

আমরা জানি, এখন ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ কর্পোরেশন আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের মতো করে মশক নিধন অভিযান চালায়। আর সমন্বিত অভিযান না হওয়ার কারণে মশা মারা, মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, পানি জমে থাকা স্থানগুলো পরিষ্কার সঠিকভাবে হয় না। তাই ডেঙ্গু দমন কার্যক্রমে সফল্য পায় না দুই সিটি কর্পোরেশনই।

আমরা মনে করি, পরিকল্পিত এবং সমন্বিত উদ্যোগ না হলে কোনোভাবেই মানুষকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব না। এর বাইরে জনগণকেও ব্যাপকভাবে সচেতন করতে হবে।