চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডি ভিলিয়ার্স আসতেই জয়ে ফিরল রংপুর

গেইল, ডি ভিলিয়ার্স, রুশো, হেলস- এই ফ্যান্টাসটিক ফোরকে ঠেকাবে কে? এবারের বিপিএলের ওয়ার্নারের শেষ ম্যাচটা জিতে অধিনায়ককে ফেয়ারওয়েল দিতে পারবেন সতীর্থরা? ওয়ার্নার কী দল জিতিয়ে শেষ ম্যাচটা রাঙাতে পারবেন?

এমন বেশকিছু প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয় বিপিএলের ২১তম ম্যাচ। সিলেটে দিনের প্রথম ম্যাচে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে, তবে তা ওয়ার্নারের বিপক্ষেই গেছে। অধিনায়ককে শেষ ম্যাচে জয়ে ফেয়ারওয়েল দিতে পারেনি সতীর্থরা। রানের পাহাড় গড়েও জিততে পারেননি সিলেট। বিগ ফোরের সঙ্গে বাকিদের অংশগ্রহণমূলক পারফরম্যান্সে ৪ উইকেটে জেতে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার রংপুর।

বিজ্ঞাপন

ডি ভিলিয়ার্স যোগ হওয়ায় এই ম্যাচকে বলা হচ্ছিল সেরা বোলিং লাইনআপের সঙ্গে সেরা ব্যাটিং লাইনআপের ‘যুদ্ধ’। সেই যুদ্ধে ব্যাটিং লাইনআপের জয় হল। টানা তিন হারের পর আবার জয়ে ফিরল রংপুর। বলতে গেলে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ খ্যাত ডি ভিলিয়ার্স দলে যোগ দেয়ার পর ভাগ্য ঘুরে গেল তাদের। ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করে রংপুর জিতে যাওয়ায় আসরের অন্যতম সেরা জমজমাট ম্যাচ হয়ে থাকল এটি।

বিশাল টার্গেট তাড়ায় নেমে প্রথমেই ধাক্কা। দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি ক্রিস গেইল। সিলেটের পাহাড় টপকাতে গেইলের কাছ থেকে ঝড়ো ইনিংসের আশায় ছিল দল-সমর্থকরা। সেটা হয়নি। মোহাম্মদ ইরফানের বল ফ্লিক করতে গিয়ে লিডিংএজ। বল চলে যায় পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের কাছে।

আজকের দিনটা যে সাব্বিরের! ব্যাট হাতে ৮৩ রানের ইনিংস খেলা সাব্বির ফিল্ডিংয়ে পাওয়া প্রথম সুযোগটাও মিস করেননি। ফলে অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় ‘বিগ বস’ গেইলকে।

গেইল ফেরার পর ক্রিজে জোড়া বাধেন বিগ ফোরের অন্য দুই বিদেশি হেলস ও রুশো। তাদের বারবার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন সিক্সার্স ফিল্ডাররা। দুজনের তিনটি ক্যাচ ছাড়েন তারা। অবশেষে অলক কাপালি ভাঙেন ৬৩ রানে জুটি। কাপালির বল উঁচু করে খেলতে গিয়ে সীমানার কাছে লিটন দাসে হাতে ক্যাচ দেন হেলস। ২৪ বলে ৩৩ রান করেন ইংলিশ তারকা।

হেলস ফিরে যাওয়ার পর মাঠে আসেন প্রথমবার বিপিএল খেলতে নামা এবি ডি ভিলিয়ার্স। স্বদেশি রুশোর সঙ্গে জুটি বেধে জয়ের পথেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু প্রোটিয়া বাধে ফাটল ধরান তাসকিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

দুজনকেই ফেরান টাইগার পেসার। সেটিও আবার একই ওভারে। প্রথমে রুশো। পরে ডি ভিলিয়ার্সকে পরিস্কার বোল্ড। ৩৫ বলে নয় চার ও দুই ছক্কায় ৬১ রান করেন রুশো। সমান দুটি করে চার-ছয়ে ২১ বলে ৩৪ রান করেন এবি। দুজনে মিলে করেন গড়েন ৬৭ রানের জুটি।

ফেরার আগে জয়ের ভালো ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স-রুশো। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বাকি কাজটা শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন নাহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ মিঠুন।

এই জুটিকে দানা বাধতে দেননি তাসকিন। লংঅফে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ১৪ রান করা মিঠুনকে ফেরান তিনি। নিজের স্পেলের শেষ বলে ১৯ রান নাহিদুলকেও বোল্ড করে উইকেটের হালি পূর্ণ করেন।

নাহিদুল-মিঠুন যেটা পারেননি সেটা শেষে করে দেখান মাশরাফী ও ফরহাদ রেজা। শেষ দুই ওভারে রংপুরের প্রয়োজন হয় ২৪ রানের। তখন ক্রিজে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও ফরহাদ রেজা। ফলে জয়ের আশাই করছিল দল।

মেহেদীর করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারেন মাশরাফী। দ্বিতীয় বলে এক রান। তৃতীয় বলে আবার বাউন্ডারি মারেন ফরহাদ রেজা। শেষ বলে ছক্কা মেরে শেষ ওভারের জন্য পাঁচ রান রাখেন রেজা। অলক কাপালির করা শেষ ওভারে তিন বল খেলেই ম্যাচ জিতে নেয় রংপুর। চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন ফরহাদ।  ৬ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। এক চারে মাশরাফীর অবদান অপরাজিত ৫ রান।

সিলেটের হয়ে ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। একটি উইকেট পান মোহাম্মদ ইরফান ও অলক কাপালি।

এর আগে সাব্বির রহমানের ৮৩ ও নিকোলাস পুরানের ৪৭ রানে ভর করে ১৯৪ রানের ফাইটিং স্কোর গড়ে সিলেট সিক্সার্স

Bellow Post-Green View