চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডিরেক্টরি থেকে ব্যবসায়ীদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি

গ্রেপ্তার ৬

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরি ও টেলিফোন গাইড থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল একদল প্রতারক চক্র।

পুলিশ বলছে, ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সঙ্গে এই চক্রের কোনো যোগাযোগ নেই। এই গ্রুপের সদস্যদের মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল কেন্দ্রিক তৎপরতা বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন থানা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম।

গ্রেপ্তাররা হলো: বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আব্দুল হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ ও মো. খোরশেদ আলম। সেসময় তাদের থেকে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন।

তিনি বলেন: গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের কাছে চাঁদাবাজির শিকার একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে- অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য মালিবাগের জিসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা সংগঠন পরিচালনার জন্য ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী উক্ত বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে চাঁদাবাজরা তাকে বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার করা জিনিস ও নথিপত্র

ওই ভুক্তভোগী ভয়ে তাদের দেয়া বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্টে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর চাঁদাবাজরা তার কাছে আরও মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে।এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তাদেরকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।’

ওয়ালিদ হোসেন বলেন: গ্রেপ্তার চাঁদাবাজ চক্রটি তিনটি গ্রুপে কাজ করতো। তাদের প্রথম গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন গাইড, ডিরেক্টরি বই ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নামিদামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে। টার্গেট করা নাম্বারগুলো দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের কাছে পাঠাতো। এই গ্রুপের সদস্যরা টার্গেট করা ব্যবসায়ীদের মোবাইল ও টেলিফোন নাম্বারে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয় দিয়ে ফোন করত।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মিডিয়া মো. ওয়ালিদ হোসেন

তাদের সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জেল হাজতে আটক আছে, তাদের জামিন করতে ও সংগঠন পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তাদের দাবি করা চাঁদা পাঠানোর জন্য বিকাশ, নগদ রকেট এ্যাকাউন্ট নাম্বার দেয়। টাকা না দিলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীরা তাদের ভয়ে বিভিন্ন সময় তাদেরকে উল্লেখিত এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়। এই চক্রের তৃতীয় গ্রুপের সদস্যরা তাদের এ্যাকাউন্টে ভিকটিমের পাঠানো টাকা সংগ্রহ করত।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি মিডিয়া ওয়ালিদ হোসেন বলেন: যদিও ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সঙ্গে এই চক্রের কোনো যোগাযোগ নেই। এই গ্রুপের সদস্যদের মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল কেন্দ্রিক তৎপর বেশি। এক সময়ের আন্ডারগ্রাউন্ড জগতের প্রভাববিস্তার করা শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণামূলকভাবে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।