চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডিফিকাল্ট রাজনীতি সহজ হয়ে যাক ৩০ ডিসেম্বর

নির্বাচনকে অনেকে বলে ভোট যুদ্ধ। নির্বাচন আসলে যুদ্ধের মতই একটা বিষয় তবে যুদ্ধ নয়। নির্বাচন হলো নীতি, আদর্শ, কর্মপরিকল্পনার লড়াই।

যে দল যত ভাল করে নিজেদের আদর্শ তুলে ধরতে পারবে, দেশের সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করতে পারবে, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় সমস্যাগুলোর মূলে পৌঁছে প্রতিকারের ব্যবস্থার কথা বলতে পারবে সে দল জনগণের কাছে তত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে; বেশি ভোট পাবে; সরকার গঠন করবে, পরিচালনা করবে; জনগণের কাছে সময়মত জবাবদিহি করে আবারো ভোট চাইবে। কোন দল পর্যাপ্ত জনমত টানতে না পারলে তার কারণগুলো চিহ্নিত করবে; আবারো নতুন করে দেশ, সমাজ নিয়ে ভাববে; সরকারের উপযুক্ত সমালোচনা করবে; ভাল কাজে সহযোগিতা করবে; সামনের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে; জনগণের কাছে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পুরস্কার স্বরূপ ভোট দাবি করবে।

বিজ্ঞাপন

ভোট ভিক্ষার মত চাওয়ার জিনিস নয়, পণ্যের মত বিক্রির বিষয় নয়। নাগরিকদের দ্বায়িত্ব হচ্ছে উপযুক্ত দল/প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসা। নিজের বিচারে উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে যা আছে তার মধ্য থেকে মন্দের ভাল বিবেচনা করে ভোট দিতে হয়। না ভোটের সুযোগ থাকা উচিৎ নয়। দেশটাতো চালাতে হবে। সবাই যদি না ভোট দেয় তবে তো কেউ জিততে পারবে না। কেউ না জিতলে দেশ চালাবে কে? দেশ পরিচালনা করার জন্য কাউকে পাওয়া না গেলে তো অরাজকতা সৃষ্টি হবে।

নির্বাচন যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ হলো জান, মাল, ইজ্জত – সর্বস্ব বাজী রেখে লড়াই করার বিষয়। নির্বাচন এরকম নয়। নির্বাচনে হারলে এমন কী বা আসে যায়? জিতলে সরকারে, হারলে বিরোধী দলে। উন্নত দেশগুলোতে বিরোধী দলের ভূমিকা ছায়া সরকারের মত। সরকারের পেছনে ছায়ার মত লেগে থেকে সার্বক্ষণিকভাবে সরকারের কাজকর্মের তদারকি করা যাতে সরকার সঠিক পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সরকার বিপথে যেতে থাকলে বিরোধী দলের দ্বায়িত্ব হল তাকে প্রতিহত করা। এতক্ষণ যা বলছিলাম তা আদর্শ গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা। গণতান্ত্রিক পরিবেশ এমনই হওয়া উচিত। যদিও বাস্তবে পৃথিবীর কোন দেশে এমন গণতন্ত্র আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে উন্নত গণতন্ত্রের দেশগুলোতে উপরোক্ত চিত্রের অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যায়; সবটুকু পাওয়া যায় না। উন্নত দেশগুলোতে নির্বাচনে হারলে জান, মাল যায় না; সরকার পরিচালনা করার তথা দুর্নীতি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাদের কথা আলাদা। আমাদের মত দেশে নির্বাচনে হারলে অনেক কিছু আসে যায়; জীবন, জীবিকা, সম্ভ্রমসহ বহু কিছু হারাতে হয়। যার কিছু জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত রয়েছে ২০০১ এর নির্বাচন পরবর্তী সময়ে।

আমাদের দেশে নির্বাচনের হারজিতের পার্থক্য এত বিশাল কেন? এই প্রশ্নটার উত্তরের মধ্যে রয়েছে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সচেতন মানুষের কর্তব্য নির্ধারনের পথ। এক কথায় খুব সহজে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় – আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা যথেষ্ট পরিমাণে নেই বলে। এরপর যে প্রশ্ন আসে তা হলোঃ স্বাধীনতার পর ৪৭ বছর পার হয়ে আসার পরেও আমাদের গণতন্ত্র দুর্বল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর হল – আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাইনি বলে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না পাওয়ার কারণ হলো এই ৪৭ বছরের মধ্যে ৩৩ বছর (১৯৭৫ – ২০০৮) অর্থাৎ প্রায় ৭০% সময় দেশ পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াত, বিএনপি, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং আমেরিকা। এই ৩৩ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের শাসনাধীন (১৯৯৬-০১) পাঁচ বছরও রয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সৃষ্টির কারিগর হলেও বাংলাদেশ রাজনীতি সে সময়ে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকায় দলটি সে সময়ে সরকারের নির্দিষ্ট কিছু রুটিন কাজ এবং স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। দীর্ঘকালের সেনাশাসন, পাকিস্তানপন্থীদের দৌরাত্ব আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা বলবদ থাকার কারনে রাজনৈতিক সংস্কার মূলক কাজ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ইত্যাদি বিষয়ের কাজে হাত দেয়া আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আওয়ামী লীগ এসব কাজ করেছে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে।

৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। জিয়াউর রহমান পাকিস্তান এবং আমেরিকার সমর্থনে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতা বিরোধী লোকদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। ঘোষণা করেন, “I’ll make politics difficult for politicians”। বঙ্গবন্ধুর সময়ে যারা দেশে ফেরার সাহস পায়নি এবং দেশের ভেতরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ভাবে পুনর্বাসন করেন। তার সময়ে ঘাতক গোলাম আযম দেশে ফিরে আসে, জামায়াতে ইসলামীসহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলগুলো রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পায়, এগারো হাজার যুদ্ধাপরাধী জেল থেকে মুক্তি পায়, পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা লোকেরা প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীতে উচ্চ পদে যোগদান করে, জিয়া সরকারে স্বাধীনতা বিরোধীদের স্থান হয়। দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পুনর্বাসন প্রকল্প সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ণ হয়। এই প্রকল্প তার পরবর্তী সরকারগুলো এগিয়ে নেয়; ধর্ম প্রচারের নামে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ঘরে ঘরে সংগঠিত হতে থাকে। বেগম জিয়ার সরকারগুলোতে তাদের মন্ত্রীত্বের পদ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়; যুদ্ধাপরাধীদের তিনি আলেম-ওলামা অভিধায় ভুষিত করে নিরপরাধের সার্টিফিকেট দেন। বিএনপি পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

একদিকে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার সমর্থনে সেনাশাসন আরেক দিকে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদী, ধর্ম ব্যবসায়ী জামায়াতে ইসলামী – দেশ থেকে ধীরে ধীরে নৈতিকতা, সুশাসন বিলুপ্ত হতে হতে প্রবল হয়ে উঠতে থাকে বাজারমুখী বুর্জোয়া অর্থনীতি, দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসন ও রাজনীতি। সেনাশাসকদের সৃষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদী, মার্কিন দালাল সুশীল সমাজের প্রচারণায় হয়ে ওঠে রাজনীতির মূলধারা। আদর্শবাদী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা হয় নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার; বাংলাদেশ হারায় গণতান্ত্রিক রাজনীতি।

৬০ এর দশকে বাংলাদেশে আদর্শবাদী রাজনীতির চর্চা এমন উচ্চতায় উঠেছিল যে সে সময়ের মানুষেরা রাজনৈতিক চরিত্রে, উৎকর্ষে, শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশটা স্বাধীন করে ফেলতে পেরেছিল। টানা ৩৩ বছরের পাকিস্তান, আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির ফলে বাংলাদেশ তার অতীত গৌরবের সব কিছুই হারিয়ে ফেলে এতটা অধঃপতিত হয় যে যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের মানুষের করের টাকায় কেনা গাড়িতে ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৪ লক্ষ বীরঙ্গনার অর্জন লাল-সবুজের পতাকা লাগিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে বাংলাদেশ দাপিয়ে বেড়াতে থাকে; হাততালি আর জিন্দাবাদ ধ্বনিতে অভিসিক্ত হয়েছে গ্রামে-গঞ্জে-নগরে। এসব অন্ধকার যুগের দাম এখন বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি বহু দশকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক পরিবেশ শুধু নষ্টই করেনি এখানে চালিয়েছে রাজনৈতিক হত্যা আর চাষাবাদ করেছে জঙ্গিবাদের। এরা কখনো জাতীয় বা দলীয় রাজনীতিতে গণতন্ত্রের চর্চা হবার সুযোগ দেয়নি। দল চালিয়েছে দলীয় প্রধানের একক সিদ্ধান্তে। দলের নেতৃত্বে এনেছে সন্ত্রাসীদের। পারিবারিক পরিচয় বা ব্যক্তি পছন্দ থেকে নির্ধারন করা হয়েছে বিভিন্ন পর্যারের দলের নেতৃত্ব। যে যত বড় সন্ত্রাসী দলীয় রাজনীতিতে সে তত বড় পদ পেয়েছে। এরা প্রশ্রয় দিয়েছে হত্যার রাজনীতি। ২১ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দলটিকে। বিএনপি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের জানের শত্রু। তথাকথিত হ্যাঁ-না ভোট, কেন্দ্র দখল আর সিল পেটানোর নির্বাচন সুস্থধারার রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতির মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেছে। সিল পেটানোর ভোটে বা সুক্ষ ও স্থুল কারচুপির ভোটে জিতে কোন সময় এরা সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা ছাড়েনি। প্রতিবার গণআন্দোলন করে তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হয়েছে।

দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে চলে আসা অন্ধকারের রাজনীতির অশুভ প্রভাব মুক্ত থাকতে পারেনি সুস্থধারার রাজনৈতিক দলগুলোও। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সমাজতান্ত্রিক, সাম্যবাদী, কমিউনিষ্ট দলগুলোও হারিয়েছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ। সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতির দায় থাকলেও এখানকার নেতৃত্ব কলুষিত হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অশুভ রাজনীতির চর্চায়। সোভিয়েত পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দেশে বাম ধারার রাজনীতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও বাংলাদেশের মত একেবারে সাইডলাইন হয়ে যায়নি। সুস্থধারার রাজনীতি করা লোকেরা এখানে রাজনীতি ছেড়ে সাম্রাজ্যবাদীদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বিরাজনীতিকরণযন্ত্র, এনজিওতে যোগ দিয়ে সুশীল হয়ে গেছে; রাজনীতে ঢুকে পড়েছে সন্ত্রাসী আর কালোবাজারীরা।

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এদেশে দীর্ঘকাল ক্ষমতা দখল করে থাকলেও তারা সে ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতি করতে পারেনি। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এরা উল্লেখ করার মত কিছুই করেনি। একটা বড় স্থাপনা, অবকাঠামো, খাদ্য উৎপাদন – কোন ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা চোখে পড়ে না। এরা ক্ষমতা পেলে বিদ্যুৎ উদপাদন কমে বেড়ে যায় খাম্বা বাণিজ্য। সার চাওয়ার অপরাধে, বিদ্যুৎ চাওয়ার অপরাধে গুলি খেয়ে মরতে হয় কৃষককে। এরা শুধু ক্ষমতা ভোগ করেছে। ক্ষমতা, রাষ্ট্রযন্ত্র কাজে লাগিয়ে এরা দুর্নীতির হাওয়া ভবন বানিয়ে টানা পাঁচ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত করেছে। অন্যদিকে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, উৎপাদন বাড়ে, রফতানি বাড়ে, রেমিটেন্স বাড়ে, বাড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ –বিশ্ব ব্যাংকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

স্বাধীনতা বিরোধীরা অনাচার, অনিষ্ট ছাড়া এদেশকে কিছুই দিতে পারেনি। এরা ধ্বংস করেছে রাজনীতি, অর্থনীতি, নৈতিকতা; প্রতিষ্ঠা করেছে দুর্নীতি, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি, মৌলবাদ আর জঙ্গিবাদ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশ ফিরে পেতে শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধারের স্বপ্নের বাংলাদেশ। একদিকে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, জেল হত্যার বিচার, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার, ২১ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা হতে শুরু করেছে আইনের শাসন; রাজনীতির মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ছে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতি। অন্যদিকে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। গত দশ বছরে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র থেকে মুক্তি পেয়ে উঠে এসেছে মধ্যবিত্তের কাতারে। দারিদ্র কমেছে অনেকখানী। শুধু ডাল-ভাত নয়, নিশ্চিত হয়েছে মাছ-ভাত। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত; ভূমিকা রাখছে বিশ্ব সভায়।

গত দশ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার বড় বড় রাজনৈতিক হত্যাগুলোর বিচার করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে, জঙ্গিবাদীদের দমন করে, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি দুর্নীতি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জরিপ অনুযায়ী পর পর কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা যথেষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখন প্রধান অভিযোগ শুধু একটাই, দুর্নীতি। সামনে নির্বাচন, সাধারণ মানুষ দেশের উন্নতি দেখতে পাচ্ছে, উপলব্ধি করছে। এখন আর কেউ বেগম জিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনা করে না। একাত্তরের ঘাতকেরা এখন সবার কাছে চরমভাবে ঘৃণিত, পরিত্যাজ্য। এরকম সময়ে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দেয়া আওয়ামী লীগের জয়ের পথে দুর্নীতিকে কাঁটা হয়ে থাকতে দেয়া যায় না। নির্বাচনী ইশতেহারে, প্রচারণায় “দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ” হয়ে উঠুক প্রধান বিষয়। নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বুঝতে দিতে হবে – নির্বাচিত হয়ে সামনের পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের কাজ হবে দুর্নীতি দমন করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার পথে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তবেই বিজয়ী হবে আওয়ামী লীগ, জিতে যাবে বাংলাদেশ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)