চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

ডাস্টবিনে মানবভ্রূণ: আসল ঘটনা খুঁজতে হবে

Nagod
Bkash July

গতকাল সোমবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের একটি খবরে সারাদেশ তোলপাড় ওঠে। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ডাস্টবিন থেকে ৩১টি মানবভ্রূণ উদ্ধার করেন কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে এই খবরে গুজবের ডালপালা গজিয়ে বিশাল আকার ধারণ করে।

Reneta June

উৎসুক জনতা তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভ্রূণের ছবি দিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকে। কেউ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এসব বাচ্চা কোথা থেকে এলো?’ কারো দাবি, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’ কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেন, ‘একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এসব শিশুর মরদেহ পাচার করছিল।’ এমন সব আলোচনায় ভেসে যায় ফেসবুকের পাতা।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেয় কর্তৃপক্ষ। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক দাবি করেন, ওইসব ভ্রূণ মূলত অনেক বছরের আগের। অপরিণত যেসব ভ্রূণ হাসপাতালে প্রসব হয়, তা গবেষণার জন্য ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এটা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ভ্রূণ শিক্ষার কাজে ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু যাদের উপর এ দায়িত্ব ছিল, তারা ঠিকভাবে কাজটি করেনি। মাটিচাপা না দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

আমরা জেনেছি, এরই মধ্যে ঘটনা তদন্তে আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই তদন্ত করে জানতে পারবে আসলে কী ঘটেছিল? ভ্রূণগুলো কাদের? বা কোথা থেকেই তা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ঘটনার পেছনে কোনো ঘটনা থাকলে, তাকেও খুঁজে বের করতে হবে।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, ভ্রূণগুলো যেভাবে ফেলে রাখা হয়েছে – খুবই অমানবিক। হোক তা বহু আগের পুরানো ভ্রূণ। কিন্তু এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে আরো সতর্ক  হওয়া উচিৎ ছিল। আবার এই ভ্রূণের ছবি যেভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; সেটাও সুস্থ কোনো কর্মকাণ্ড নয়। অতি উৎসাহী কিছু মানুষের এই ধরনের তৎপরতা আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আমরা মনে করি, কোনো ঘটনা সত্যি হোক বা না হোক, তা শুনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে দেয়া চরম দায়িত্বহীনতা। চাইলেই অনেক কিছু সেখানে শেয়ার করা যায় না; এ নিয়ে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে।

BSH
Bellow Post-Green View