চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডালমিয়ার ‘পক্ষপাতিত্বে’ টিকে যায় শোয়েবের ক্যারিয়ার

বিসিসিআই ও আইসিসির সাবেক সভাপতি, প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার কারণে শোয়েব আখতারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেঁচে যায় বলে মন্তব্য করেছেন পিসিবির সাবেক সভাপতি তৌকির জিয়া। ক্রিকেটবিশ্ব যখন নির্বাসিত করতে একমত, তখন ডালমিয়া শক্তভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই খেলা চালিয়ে যেতে পেরেছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিডস্টার।

১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা করে শোয়েব ২০১১ সাল পর্যন্ত দাপটে খেলে গেছেন। ১৯৯৯ সালে ভারত সফরে এসে কলকাতা টেস্টে পরপর দুই বলে রাহুল দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে আলোচনা ও সাফল্যে তুঙ্গমুখী হন।

বিজ্ঞাপন

সময়ের সাথে শোয়েবের সাফল্যযাত্রার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। সঙ্গে আলোচনা বাড়তে থাকে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে। শোয়েব কেবল সেসময়েরই নন, সর্বকালের সেরা গতির পেসারদের একজন হয়ে থাকবেন ক্রিকেট ইতিহাসে। তার এই গতির পেছনে যেটি সহায়ক, সেই অ্যাকশন নিয়েই বিস্তর প্রশ্ন উঠতে থাকে তখন।

আইসিসি বস ডালমিয়া তখন শক্তকাঁধে শোয়েবের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তখনকার প্রধান তৌকির জিয়া স্বদেশি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, গোটা ক্রিকেটবিশ্বই শোয়েবকে নির্বাসিত করতে উদ্যত ছিল।

বিজ্ঞাপন

‘সেসময় আইসিসির সভাপতি ছিলেন জগমোহন ডালমিয়া, এবং তার প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। শোয়েব আখতারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তিনি আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। আইসিসির অন্য সদস্যরা তার বোলিং অ্যাকশনকে অবৈধ মনে করলেও ডালমিয়ার কারণে শোয়েব বেঁচে যায়।’

‘অন্য সদস্যদের আপত্তির পর আমি ও ডালমিয়া পদক্ষেপ নেই। তাতে আইসিসি এটা মেনে নেয় যে, শোয়েবের বোলিং আর্মে জন্মগত ত্রুটি আছে। এ কারণেই বোলিংয়ের সময় তার কনুই বেশি প্রসারিত হয়। পরে তাকে বোলিং চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।’ বলেছেন তৌকির জিয়া।

শোয়েবের ক্যারিয়ার তাতে ২০০০-০১ সালে শেষ হয়ে যায়নি। ১৯৯৯ থেকেই পাকিস্তান বোর্ড জানত আইসিসি তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ করছে। অত্যন্ত প্রভাবশালী সভাপতি ডালমিয়ার কারণে শোয়েবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আর এগোতে পারেনি সংস্থাটির বাকি সদস্যরা।

পরে টেস্টে ১৭৮ উইকেট, ওয়ানডেতে ২৪৭ উইকেট, আর টি-টুয়েন্টিতে ১৯ উইকেট নিয়ে অবসরে যান শোয়েব। ২০০৭ সালে ক্রিকইনফোর সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, আমি সবসময় ডালমিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।