চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্কট কাটাতে কি নতুন কেউ আসছে?

বাংলাদেশ রাজনীতি উপযুক্ত বিরোধী দলের অভাবে ভারসাম্য হারাচ্ছে। সরকারের কর্মকাণ্ড, নীতি, অব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপযুক্ত সমালোচনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, গণফোরাম, এলডিপি, বিকল্পধারার কথা। বাজেট পরবর্তী সময়ে কোন একটি দলের কাছ থেকে মনে রাখার মতো সমালোচনা পেলাম না। মাদক বিরোধী অভিযান, কোটা সংস্কার আন্দোলন বা এমন অন্যান্য বড় রাজনৈতিক ইস্যুতেও একই অবস্থা দেখতে পাই। বিএনপি তাদের নেতা-নেত্রীর জমি, বাড়ি, সাজা, যুদ্ধাপরাধী রক্ষা ছাড়া গত দশ বছরে অন্য কোন ইস্যুতে কথা বলেছে বা লক্ষনীয় ভূমিকা রেখেছে– এমন বলা যাচ্ছে না। জাতীয় পার্টিরও নেই রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র। গণফোরামের ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ করার মতো ঘটনা হচ্ছে ১৫ সালের পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের সময় সরকারকে বোমাবাজদের কাছে পরাজয় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে বলা।

বিএনপি থেকে উদগত বিকল্পধারা, এলডিপি’র রাজনৈতিক এজেন্ডা বলে আসলে কি কিছু আছে? সম্প্রতি বিকল্পধারা, এলডিপি, গণফোরাম এবং আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে যুক্তফ্রন্ট নাম নিয়ে কিছু একটা করতে চাচ্ছেন বলে খবরে প্রকাশ হয়েছিল। তারপর খবর জগত এ বিষয়ে নীরব। কোন খবর সৃষ্টি হচ্ছে না নিশ্চয়ই। কানাঘুষা শুনেছি যে যুক্তফ্রন্ট নিজেরা নিজেদের গোছাতে পারছেন না। নিজেদের গোছাতে পারলেও তারা জাতীয় রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন প্রত্যাশা কারো নেই। তাদের যুক্তফ্রন্ট গঠনের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বড় দুই দলের সঙ্গে দরকষাকষিতে নিজেদের দাম বাড়ানো। এই দলগুলোর নেতৃত্বে যারা আছেন তারা সকলেই অতীতে কোনো না কোনো বড় দলের বড় নেতা ছিলেন। বিভিন্ন কারণে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ব্যর্থ হয়ে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অতীতের কোনো উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য জনগণ তাদের কথায় ভোট দেবে এমন ভাবনার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

সিপিবি একটি পুরনো দল। দীর্ঘ কালের এ দলটির রয়েছে দুনিয়াব্যাপী নেটওয়ার্ক। তাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। শুধু তাই নয়– এই দলটি ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন। এখনো এ দলের নেতা-কর্মীরা কঠিন দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলেন। ৮০’র দশকে, ৯০’র দশকে তাদের বাজেট সমালোচনা সরকারের ভীত কাঁপাতো। দলটির বর্তমান নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ঝানু মার্ক্সিস্ট, অর্থনীতির ছাত্র। তার কাছ থেকে বাজেটের ভালো-মন্দ নিয়ে কোনো মন্তব্য পায়নি দেশবাসী। সরকারের বাইরে থাকা অন্যান্য বাম দলগুলোর কাছেও তেমন কোনো প্রত্যাশা নেই। তাদের সেরকম সাংগঠনিক শক্তিও নেই। তবুও তারা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করে সারা ফেলে দিয়েছিলেন। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল সে আন্দোলনে মুখে মুখে শরীক হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে সরকারের বাইরে থাকা বাম দলেরা পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক এবং অন্যান্য সামাজিক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু প্রতিবাদ করে থাকেন। বস্তুত তারা রাজনীতি ছেড়ে এক্টিভিজমে পর্যবসিত হয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাঁধা দেয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করে বক্তব্য রাখা থেকে শুরু করে বিএনপি দিন দিন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব হারাচ্ছে। তার আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখতে না পারা; ব্যাপক দুর্নীতির কারণে পর পর পাঁচ বার দেশকে শীর্ষ দুর্নীতির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা; বেগম জিয়ার পুত্রদ্বয়ের দুর্নীতি; হাওয়া ভবন, বিদেশে টাকা পাচার; জঙ্গিবাদের গোড়াপত্তনে ভূমিকা; ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর সংখ্যালঘুদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া; ইত্যাদি সাধারণ মানুষ ভুলতে পারে না। তার উপর সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৪ এবং ১৫ সালের সীমাহীন নৈরাজ্য, ধ্বংস, শত শত মানুষ পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারা বিএনপিকে সাধারণের কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিএনপি রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে দুইটি- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগের বিরোধিতা।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতির লোকেরা এবং তথাকথিত সুশীল সমাজ ইতিহাস বিকৃতি করে জনমানসে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। বিএনপি সৃষ্টির উদ্দেশ্য যে পাকিস্তানি আধিপত্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতা করা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করা তা দীর্ঘ দিন ইতিহাস বিকৃতির দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছিল। ১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে লক্ষ লক্ষ মানূষ শাহবাগে একত্রিত হলে একে একে খুলে পড়তে থাকে বিএনপির মুখোশ। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে জামায়াত-বিএনপি’র জোটের গূঢ় রহস্য। বিশেষ করে বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারদাবীকারীদের ‘নাস্তিক’ এবং ‘নষ্ট ছেলে’ আখ্যা দেয়ায় প্রকাশ হয়ে পরে বিএনপির আসল চরিত্র। এরপর হেফাজতের মধ্যযুগীয় ১৩ দফায় সমর্থন দিয়ে জামায়াত এবং হেফাজতের সহযোগিতায় ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা করে দেশে তালেবানী রাজত্ব সৃষ্টির চেষ্টা বিএনপির উদ্দেশ্য আরও বেশি করে প্রকাশ করে দেয়। পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে আসে। এতে বিভিন্ন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত থাকা শিক্ষিত মানুষদের বিভ্রান্তি কাটতে শুরু করে। জামায়াত-বিএনপি কী জিনিস তা তারা বুঝতে পারে।

খালেদা জিয়াদুর্নীতির দায়ে বেগম জিয়ার জেলে যাবার পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তি সমূহের সমর্থনের অভাব দৃশ্যমান হতে থাকে। পেট্রোল বোমা আন্দোলনের সময় থেকেই পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের হাতিয়ার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সরকারও তাদের একই পরামর্শ প্রদান করে। বিএনপি তাদের এসব পরামর্শ গ্রহণ না করায় দিন দিন তাদের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থন শূন্যের দিকে নামতে থাকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে থাকলে বিশ্ব নেতারা শেখ হাসিনা নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠে; বিএনপি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অপাংতেয় হয়ে যায়। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলেও বেগম জিয়ার শাস্তির ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করা থেকে বিরত থাকে।

আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপি বন্ধুহীন হয়ে পড়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের এদেশীয় দোসররাও চুপ মেরে যায়। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে কথা বলার জন্য হাতেগোনা কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়া আর কেউ নেই। পেট্রোল বোমা মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মিরাও বেগম জিয়া মুক্তি আন্দোলনে শরিক হতে চাইছে না। ডান, বাম, মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী জাতীয় বিভিন্ন দল, মত, পথের লোক একত্রিত হয়ে সৃষ্ট হালুয়ারুটি দল, বিএনপিতে কখনোই সুস্থ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না। ফলে এ দলে নেতা তৈরি হয়নি; হয়েছে চাটুকার সৃষ্টি। চাটুকারেরা কখনো সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠতে পারে না। ফলে দলের চরম দুর্দিনে দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান নেতৃত্ব খালেদা জিয়ার মুক্তি বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবি– কোনটাই জমাতে পারছে না। বিএনপি দিন দিন ছোট হতে হতে শেষ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।

বিএনপি রাজনীতির মূল খুঁজতে গেলে পাওয়া যায় স্বাধীনতা বিরোধী মুসলিম লীগকে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগ দিন দিন মৌলবাদী রাজনীতিতে নিমজ্জিত হতে থাকলে সময়ের চাহিদায় সেখান থেকে বেড়িয়ে গঠিত হয় ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ। যে মৌলবাদী মানসিকতার লোকেরা বাংলায় মুসলিম লীগে থেকে গিয়েছিল তারাই স্বাধীনতার পরে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে সৃষ্টি করে বিএনপি। মুসলিম লীগ পাকিস্তানে নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বে মডারেট হয়ে হয়েছে দুর্নীতিবাজ এবং প্রায় জঙ্গিবাদী। এদের অর্থনীতি হচ্ছে একশত ভাগ পুঁজিবাদী। সাম্যবাদ, কমিউনিজম এদের সহ্য সীমার বাইরে থাকে। ইউরোপ, আমেরিকায় এই ধারার রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেরিন লী পেন, নাইজেল ফরাজ, বার্লোসকোনি ইত্যাদি। সেখানে এদের সবচেয়ে পরিশিলিত রূপ দেখা যায় টেরেসা মে, হিলারী ক্লিনটন, জর্জ বুশ, টনি ব্লেয়ার, অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ইম্যানুয়েল ম্যাঁক্রোদের মধ্যে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ রকম ডানপন্থি দল রয়েছে যার বিপরীতে রয়েছে আওয়ামী লীগের মতো মধ্য বাম ধারার রাজনৈতিক দল। ইংল্যান্ডে লেবার, আমেরিকায় ডেমোক্র্যাট, জার্মানিতে এসপিডি, ভারতে কংগ্রেস ইত্যাদি মধ্যবাম ধারার রাজনৈতিক দলের উদাহরণ।

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ডানপন্থিদের প্লাটফর্ম হয়ে আছে বিএনপি। এই প্লাটফর্ম ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে। জামায়াত সিলেটে বিএনপির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। বিশ দলীয় জোটের অনেকে দূরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। কেউ কেউ একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করছে নতুন ডানপন্থি প্লাটফর্ম তৈরির উদ্দ্যেশ্যে। ডানপন্থি রাজনীতিতে ভাটার টান স্পষ্ট। বেগম জিয়া এবং তার দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিভাবাপন্ন পুত্রের নেতৃত্বে বিএনপি আর এগুতে পারছে না। ভবিষ্যতে পারবে– এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি টিকে থাকার জন্য এখনো একটা সুযোগ আছে। তা হলো যুদ্ধাপরাধী এবং মৌলবাদীদের সংস্পর্শ ত্যাগ করে জিয়া পরিবার বাদ দিয়ে নতুন কারো নেতৃত্বে দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। তবে সে সুযোগ গ্রহণ করার কোন প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। বিভ্রান্তি বা যে কারণেই হোক না কেন কিছু সুস্থ চিন্তার দেশপ্রেমিক মানুষ ৮০’র দশকের শেষার্ধে এবং ৯০’র দশকের শুরুতে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। তারা এগিয়ে এসে বিএনপিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিএনপি নিজেদের সংস্কারে ব্যর্থ হলে ডানপন্থি রাজনীতি করার জন্য এগিয়ে আসবে নতুন কোন দল।

১৩ সালের গণজাগরণে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছে তৎকালীন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক (বোয়ান) এর সভাপতি ডাঃ ইমরান এইচ সরকার। বোয়ান সেদিন সবার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করায় আন্দোলনের নেতৃত্ব বোয়ানের হাতে চলে যায়। সেই সুবাদে বোয়ান নেতা ইমরান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। শাহবাগ প্রতিবাদকে অরাজনৈতিক চেহারা দেবার জন্য এর দরকার ছিল বলে ছাত্র রাজনীতির দলগুলো তা মেনে নিয়েছিল। ইমরান সে সময় থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার আছে। তার একটা ভালো সংখ্যক সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। সরকারের বাইরে থাকা মস্কো, চাইনিজ উভয় ধারার বাম সংগঠনগুলো ইমরানের সঙ্গে যুক্ত আছে। মঞ্চের শুরু থেকে ইমরান ছাত্রলীগের সঙ্গে দূরত্ব রেখে বামদের সঙ্গে পরামর্শ করে শাহবাগ আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এ পর্যন্ত ইমরান ব্যালান্সড বক্তব্য এবং অবস্থান নিয়ে ধীরে ধীরে একটা নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। গণজাগরণ মঞ্চ চালু থাকাকালীন বিএনপি, জামায়াত ইমরানের চরম বিপক্ষে অবস্থান নিলেও ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় বিএনপি সমর্থক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা তরুণ প্রজন্ম ইমরানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এ কথা স্পষ্ট করে বোঝা গিয়েছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা, ৫৭ ধারা বাতিল এবং চলমান মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার আন্দোলনে। এসব আন্দোলনে ইমরানের নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ, জামায়াত-শিবির, বাম দল আর বিএনপি ভাবাপন্ন লোকেরা একাকার হয়ে গেছে।

বাম দলগুলো এখন আর সমাজতান্ত্রিক বা কমিউনিষ্ট ভাবধারায় নেই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর থেকে বাংলাদেশের বাম দলগুলো পথহারা। তারা শুধু নামেই বাম। কার্যত এরা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দালালে পরিণত হয়েছে। ১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে দলবেঁধে এক লাইনে দাঁড়িয়ে তারা তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বামেরা বাস্তবে ডানপন্থি হয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। এদের রাজনৈতিক অবস্থান মানুষ বোঝে না। এরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক দল নয় পরিবেশবাদী এনজিও হয়ে গেছে। ইমরানের এখন সুযোগ আছে এই বামদের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা বিএনপি সমর্থকদের এক করে একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করার। ইমরান যদি তা করতে পারেন তবে বিএনপির সমর্থকেরা ক্ষয়িষ্ণু বিএনপি ছেড়ে ইমরানের প্লাটফর্মে যুক্ত হবে। দেশে ডানপন্থি রাজনীতির জন্য নতুন একটা প্লাটফর্ম তৈরি হবে। এ প্লাটফর্ম হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ। আওয়ামী লীগ তাতে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী, বাংলাদেশ বিরোধী প্রতিপক্ষের স্থানে বাংলাদেশপন্থি একটা প্রতিপক্ষ পাবে। জামায়াত নিষিদ্ধ হয়ে গেলে আরেক দিকে থাকবে কিছু পশ্চাদপর ইসলামী মৌলবাদী দল। জামায়াতীরা ধীরে ধীরে এদের মধ্যে নিমজ্জিত হবে। বাংলাদেশ রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেবে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপি নেক্সাস। আওয়ামী লীগকে এ বাস্তবতা বুঝতে হবে, মানতে হবে এবং এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। বাংলাদেশ সৃষ্টি করা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব শুধু সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করাই নয়। বাংলাদেশ রাজনীতিতে কারা কারা থাকবে, তারা কোন চরিত্রের হবে তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখাও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)