চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ট্রেলারে দোদুলের ‘ডার্ক রুম’, আরো একবার চঞ্চলের লুক পরীক্ষা

ঈদের আগের দিন সিনেমাটিক এর অ্যাপে দেখা যাবে গোলাম সোহরাব দোদুল নির্মিত প্রতীক্ষিত ওয়েব ফিল্ম ‘ডার্ক রুম’

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার রাতে সিনেমাটিক এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে গোলাম সোহরাব দোদুলের দ্বিতীয় ওয়েব ফিল্ম ‘ডার্ক রুম’ এর ট্রেলার। যথারীতি আলোচনায়। বিশেষ করে ট্রেলারে বিশেষভাবে প্রশসিংত হচ্ছে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ভিন্ন লুক।

চঞ্চল চৌধুরী মানে ভিন্ন কিছু, এটা দর্শক মাত্রই জানেন। হাতে গোনা যেসব চলচ্চিত্রে এরআগে তিনি অভিনয় করেছেন, সবগুলোই দর্শকের কাছে যেমন প্রশংসিত হয়েছে তেমনি সমালোচকদেরও বাহবা কুড়িয়েছেন!

বিজ্ঞাপন

আর এবার চঞ্চল চৌধুরীর পাশাপাশি এই ওয়েব ফিল্মটিতে অচেনা রূপে ধরা পড়েছেন জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী তারিন ও আজমেরী হক বাঁধন। প্রায় আড়াই মিনিটের ট্রেলারে গল্পের বিষয়বস্তু খোলাসা করেননি পরিচালক।

চ্যানেল আই অনলাইনকে গোলাম সোহরাব দোদুল জানান, কথা দিয়েছিলাম আমার প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘ছক’ এর পর পরই ‘ডার্ক রুম’ দর্শকের সামনে আসবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একটি দেরী হলেও ঈদকে সামনে রেখে সিনেমাটিক অ্যাপ কর্তৃপক্ষ এটি মুক্তির আচমকা পরিকল্পনা করেছে। তবুও দর্শকের বেশ সাড়া দেখছি।

নির্মাতা জানান, ঈদের আগের দিন সিনেমাটিক অ্যাপে রিলিজের পর ঈদের চতুর্থ দিন বাংলা ভিশনের পর্দায় হবে টিভি প্রিমিয়ার।

এদিকে ট্রেলার প্রকাশের পর চঞ্চল চৌধুরীর লুকের প্রশংসা করতে দেখা গেছে সিনেপ্রেমী দর্শকদের। কিন্তু ভিন্ন লুকে পর্দায় হাজির হতে যে বাংলাদেশে বহু কাঠখড় পোহাতে হয়, সেটাও বলে দিলেন চঞ্চল চৌধুরী।

‘ডার্ক রুম’ এর ট্রেলার প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মেকাপ, গেটাপ পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত বলেন এই অভিনেতা। চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য চঞ্চল চৌধুরীর লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

 

DARK ROOM
যে কোন চরিত্রের লুক বা গেট আপ, অভিনয়ের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। লুকটা যদি ঠিক ঠাক হয়, আর অভিনয়টা যদি লুকের সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়, তাহলেই চরিত্রটাকে দর্শক বিশ্বাস করে। আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কয়েকটা সেক্টরের মত, মেকআপ সেক্টরটা অবহেলিত। ভালো লুক বা গেটআপ দেবার মত ভালো মেকআপ আর্টিস্টের অনেক অভাব।

এই কাজের জন্য বাজেটও খুব কম থাকে। বড় বাজেটের কাজের সময় মাঝে মধ্যে, দেশের বাইরে থেকে মেক আপ আর্টিস্ট আনা হয়। কিন্তু আমাদের রেগুলার কাজে, গড় পড়তা বাজেট আর গোঁজামিল দিয়েই কোন মত শেষ করা হয়। এভাবেই চলছে…।

কিন্তু একজন রাইটার যখন মনের মাধুরী মিশিয়ে, লুক বর্ণনা করে একটি চরিত্র লেখেন, ডিরেক্টরও সেই অভিনয় টা দাবী করেন, তখনই বিপত্তিটা শুরু হয়। চরিত্রের বিশ্বাস যোগ্য মেক আপ বা গেট আপ না হলে তো, অভিনয় টা ঠিক ঠাক হবে না। দর্শকও তখন চরিত্র বা গল্পটাকে গ্রহণ করবে না।

আমার পেটে চারুকলার বিদ্যা যোগ হবার কারণে একটু ভিন্ন লুকের চরিত্র পেলেই, ডিরেক্টরের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে, মেকআপম্যানের সহকারী হয়ে, মোটামুটি ভাবে চরিত্রের লুকটা আদায় করে নেই। অন লাইনের এই যুগে সঠিক কাজ করার লোকের চেয়ে, ভুল ধরার লোকের সংখ্যা কোটি গুণ বেশী। যদিও আমার কথাটি কোন এক্সকিউজের জন্য বলছি না… তারপরেও…
আপনারা শুধু দর্শক হিসেবে একবার ভাবুন, বাইরের দেশের যে সকল কাজের সংগে আমাদের কাজকে তুলনা করে অধিকাংশ সময় ছুঁড়ে ফেলে দেন, খেয়াল করে দেখবেন, ওদের সাথে আমাদের বাজেটের পার্থক্য, টেকনিক্যাল পার্থক্য এবং পেশাদ্বারিত্বের পার্থক্য কতটা!

কতটা সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে আমরা কাজ করি, আপনারা অনেকেই সেটা ভাবতেও পারবেন না। তারপরেও আমরা আমাদের কাজগুলো করে চলি ভালোবাসায় আর নেশায়। ঐ যে কথায় আছে ‘নাই মামার চেয়ে,কানা মামা ভালো’।

আপনারা সাথে থাকলে দেখবেন “একদিন আমরাও…”।

এতক্ষণ যা বললাম, ঐভাবেই আমার এই চরিত্রটির লুক সেট করা,
গোলাম সোহরাব দোদুলের “ডার্করুম” ওয়েব ফিল্মে। শিগগির আসছে ‘DARK ROOM’

ট্রেলারে ‘ডার্ক রুম’:

বিজ্ঞাপন