চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন আনতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন আনতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনিয়র ডেমোক্রেট ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন আনা হবে।

মার্কিন নির্বাচনে সুবিধা পেতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য চেয়ে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকে ফোন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ন্যাাশনাল ইন্টেলিজেন্স এর প্রধান জোসেফ মিগুয়ের কংগ্রেস সদস্যের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। ইউক্রেন ফোনালাপের তথ্য ‘গোপনে’র চেষ্টা তিনি করেছিলেন কি না এমন প্রশ্নে নিজেকে সব ধরণের রাজনীতি এবং পক্ষপাতের ঊর্ধে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তাকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তার ছেলের সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তে চাপ দেন।

টেলিফোন আলাপের প্রকাশিত বিবরণ অনুসারে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের সামরিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্পকে বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্যাংক-বিধ্বংসী মিসাইল কিনতে আগ্রহী। সে কথার জবাবে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলার বদলে ট্রাম্প প্রস্তাব রাখেন, ‘আপনাকে আমাদের জন্য একটা উপকার করতে বলব।’

ট্রাম্প প্রথমে জেলেনস্কিকে ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ডেমোক্রেটিক পার্টির কম্পিউটার সার্ভার খুঁজে পেতে সাহায্য করার অনুরোধ করেন। রুশ হ্যাকারদের হাতে এই সার্ভার আক্রান্ত হয়েছিল। এরপর ট্রাম্প বাইডেন ও তার ছেলের কথিত দুর্নীতির বিষয়টি উত্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

হান্টার বাইডেন একসময় ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, হান্টার এই কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। যে অ্যাটর্নি জেনারেল এই কোম্পানির দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করছিলেন, বাইডেনের নির্দেশে তাকে পদচ্যুত করা হয় বলে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগেরও কোনো প্রমাণ নেই।

ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, ‘অনেকেই চায় এই ব্যাপারে তদন্ত হোক। আপনি যদি আমার অ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে এই ব্যাপারে একটা কিছু করতে পারেন, তাহলে খুব ভালো হয়।’

ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি রুডি জুলিয়ানির সঙ্গেও এই ব্যাপারে কথা বলতে জেলেনস্কিকে উৎসাহ দেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দেওয়ার বদলে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য ক্ষতিকর তথ্য চেয়েছেন, এই বিবরণী থেকে তা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়।

মার্কিন কংগ্রেস এর আগে ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য মঞ্জুর করেছিল, যার মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সামরিক সাহায্যও রয়েছে। ২৫ জুলাইয়ের টেলিফোন আলাপের আগে ট্রাম্প সে অর্থ হস্তান্তর স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

এই টেলিফোন আলাপচারিতার কথা প্রথম জানা যায় একজন হুইসেলব্লোয়ার বা সতর্ককারীর কাছ থেকে। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গোয়েন্দা বিভাগের একজন সদস্য, যার পক্ষে এই কথোপকথনের বিবরণ পড়া সম্ভব হয়েছিল। তিনিই প্রথম বিষয়টি গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের নজরে আনেন। কংগ্রেসের চাপের মুখে হোয়াইট হাউস এই সতর্ককারীর অভিযোগটিও কংগ্রেস সদস্যদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তা পড়ার পর অধিকাংশ ডেমোক্রেটিক সদস্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি আরও জোরেশোরে তুলেছেন। এই দাবি সমর্থন করেন এমন ডেমোক্রেটিক সদস্যের সংখ্যা এখন ২১৮, যা ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার জন্য পর্যাপ্ত।

Bellow Post-Green View