চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টিকে থাকল পাকিস্তানের সেমির স্বপ্ন

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আহত বাঘের মতো ফুঁসছিল পাকিস্তান। ফলাফলটা নিউজিল্যান্ডকে মর্মে মর্মে টের পাইয়ে দিল তারা। বিতর্ক আর বাজে ফর্মের সমালোচনাকে পেছনে ঠেলে উড়তে থাকা কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতে সরফরাজের দল বাঁচিয়ে রাখল সেমির স্বপ্নও।

মেঘলা আকাশের নিচে এজবাস্টনে টস জিতে ব্যাট করে ধুঁকতে ধুঁকতে কোনরকমে ২৩৭ করেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে বাবর আজমের দারুণ এক শতকে ৫ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে ১৯৯২ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করতে ‘১৯৯২’ কথাটাই যেন টনিকের কাজ করছে পাকিস্তানের জন্য। একই কন্ডিশন, একই ফরম্যাট, আর হুবহু ফলাফলে কোণঠাসা পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে ঠিকই ২৭ বছর আগে ঘরে তুলেছিল শিরোপা। সেই অনুপ্রেরণায় জ্বলছে সরফরাজ দলও।

চলতি বিশ্বকাপে এটি পাকিস্তানের তৃতীয় জয়। পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে আছে এক পয়েন্ট। ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্টে শ্রীলঙ্কাকে ঠেলে তারা উঠে এসেছে টেবিলের ছয়ে। সমান ম্যাচ আর সমান পয়েন্টে থাকলেও রানরেটে এগিয়ে পাঁচে আছে বাংলাদেশ।

সেমিতে যেতে হলে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে। লিগপর্বে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের প্রতিপক্ষ। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচে টাইগাররা জিতলে, আর অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল নিজেদের দিকে এলে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি হবে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল!

চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হারের মুখ দেখল উইলিয়ামসনের দল। তাতে খুব একটা সমস্যা অবশ্য হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্টে বহাল তবিয়তেই টেবিলের দুইয়ে আছে কিউরা। যদিও স্বস্তি নেই তাতে। কারণ তাদের শেষ দুই ম্যাচ আবার স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে হারলে পা হড়কানোর ভালোই সুযোগ আছে কেন উইলিয়ামসনের দলের!

ম্যাচটা যেকোনো মূল্যে জিততে চায় পাকিস্তান, সেটা টের পাওয়া গেছে তাদের ব্যাটিং দেখেই। ৪৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ফখর জামান (৯) ও ইমাম-উল হকের উইকেট হারালেও একবারও তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়নি পরের ব্যাটসম্যানদের। বিশেষ করে বাবর আজম। আগের ইনিংসগুলোতে থিতু হয়েও উইকেটে বিলিয়ে এসেছিলেন। এদিন হয়ে গেলেন একদম লৌহমানব।

দুই ওপেনার ফেরার পর মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে এগোন বাবর। এই জুটিতে আসে ৬৬ রান। এক ফাঁকে ফিফটি সেরে দ্রুততম তিন হাজার রানের কোটাও পূরণ করেন বাবর।

৬৮তম ইনিংসে তিন হাজার রান পূর্ণ করলেন বাবর। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে কোহলিকে খেলতে হয়েছিল ৭৫ ইনিংস। মাত্র ৫৭ ইনিংসে তিন হাজার ছুঁয়ে বিশ্বরেকর্ড দখলে রেখেছেন হাশিম আমলা।

বিজ্ঞাপন

দলকে ১১০ রানে রেখে অভিজ্ঞ হাফিজ ফিরলে কিছুটা ভয়। কিন্তু বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে নামা হারিস সোহেলকে নিয়ে সব চাপ উড়িয়ে দেন বাবর। দুজনে পরে আর একবারও উল্লাস করতে দেননি প্রতিপক্ষ বোলারদের।

ম্যাচের একদম শেষভাগে এসে ভাঙে বাবর-হারিসের ১২৬ রানের ম্যাচজয়ী জুটি। ৭৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় রানআউটে ফেরেন হারিস সোহেল। ফেরার আগে কাজের কাজটা ঠিকমতো করে গেছেন। সঙ্গী বাবরকে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির স্বাদ পেতে দিয়ে গেছেন যোগ্য সঙ্গ।

হারিস থাকতে থাকতেই ১২৪ বলে ১১ চারের মারে বিশ্বকাপে প্রথম ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম শতক তুলে নেন বাবর। অপরাজিত থাকেন ম্যাচজয়ী ১০১ রানে।

ব্যাট হাতে বাবর-হারিসরা ম্যাচ জেতালেও শুরুতে কাজটা করে দিয়ে গেছেন পাকিস্তানের বোলাররাই। শুরুতেই টপাটপ উইকেট তুলে কাঁপিয়ে দেন কিউই ব্যাটিংদুর্গ।

দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড মার্টিন গাপটিল (৫)। পরে একে একে কলিন মুনরো (১২), রস টেলর (৩) ও টম ল্যাথামকে (১) সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। কৈশোর থেকে সদ্য যৌবনে পা ফেলা পেসারকে এদিন যেনো বুঝেই উঠতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যানরা।

সেখান থেকে জিমি নিশামকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটিতে নড়বড়ে ব্যাটিং কাঠামোকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ছিলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৪১ রান করার পর তাকে সরফরাজের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান লেগস্পিনার শাদাব খান।

নিউজিল্যান্ডের বিপদে তখন ঢাল হয়ে দাঁড়ান জিমি নিশাম। তার সঙ্গী কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। দুজনের ১২৯ রানের বোঝাপড়ায় জুটিতে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় কিউইরা।

গ্র্যান্ডহোম ৬৪ করে রানআউটে কাঁটা পড়লেও নিশাম শেষ পর্যন্ত খেলে সাজঘরে ফিরেছেন মাত্র ৩ রানের জন্য শতক না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। ১১২ বলে ৯৭ রানের ধৈর্যশীল অপরাজিত ইনিংসটিতে ৫ চারের বিপরীতে ৩ ছক্কা হাঁকিয়েছেন নিশাম।

১০ ওভারে কেবল ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। শুরুতে রান আটকালেও পড়ে রান বিলিয়েছেন আমির। ৬৭ রান খরচায় তার শিকার গাপটিলের উইকেট।

Bellow Post-Green View