চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টাকা কোথা থেকে আসবে তা পরে দেখবো, আগে খরচ: অর্থমন্ত্রী

কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবছর যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে মূলত মানুষকে রক্ষা করার বিষয়টাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে আমরা খরচ করতে চাই। পরে আয় করবো।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

এ সময় নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট মানুষকে রক্ষার জন্য। মানুষকে খাবার দিতে হবে। চাকরি হারাদের চাকরি দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা এসবকে গুরুত্ব দিয়েছি। এই জন্য টাকা কোথা থেকে আসছে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে খরচ করবো। তারপর আমরা টাকার কথা চিন্তা করবো।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ বাজেট যেভাবে সাজিয়েছি, সেভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। আমাদের প্রত্যাশা, করোনা বেশিদিন প্রলম্বিত হবে না। যেহেতু আইএমএফ বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করব। ইতোমধ্যে আমাদের ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা আছে। সুতরাং বিশ্বাস করি, ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব।

অর্থমন্ত্রী বলছেন, মানুষ আমাদের নিয়ে কী ভাবে, কী স্বপ্ন দেখে, এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের যে প্রত্যয়–সবকিছু আমরা মূল্যায়ন করেছি। আইএমএফ কী বলেছে, বিশ্বব্যাংক কী বলেছে এবং দাতাগোষ্ঠী যারা আছে, ইকোনমিক থিংক ট্যাংক যারা আছেন এবং দেশি-বিদেশি সব থিংক ট্যাংকের মতামত নিয়ে আমরা এ বাজেট দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছি।

বিশাল বাজেটের ব্যাখ্যা দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি জানি, এ বাজেটটি ভিন্ন, আগেই বলেছি। যেহেতু স্বাভাবিক পথ আমাদের জন্য ছিল রুদ্ধ, ভিন্ন পথেই আমাদের কাজটি করতে হয়েছে। সেজন্য হয়তো আপনারা দেখবেন, অনেকের কাছে অনেক অসঙ্গতি মনে হবে। কিন্তু উপায় ছিল না। বাজেট না থাকলে কোনো অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেয়া যায় না। দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকে না খেয়ে কষ্ট পাবে, যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা কষ্ট পাবে, যারা রিকশা-শ্রমিক তারা কষ্ট পাবেন– এসব মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোনো সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছুটে আসলেন। নির্দেশনা দিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেন, সেই নির্দেশনা মেনে যেন সবাইকে সহযোগিতা করি। সেই কাজটি করে যাচ্ছি।’

বাজেটে দুটি জিনিসকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে না করলেও আমরা চেষ্টা করেছি দুটো জিনিস গুরুত্ব দিতে। একটা হচ্ছে অতীত অর্জন। অতীতে আমরা যা অর্জন করেছি, তা অস্বাভাবিক। গত ১০ বছরে আমরা সারাবিশ্বের সবার উপরে আমাদের জিডিপির গ্রোথ। গত ৫ বছরে মাথাপিছু আয় সারাবিশ্বে সেরা। আমাদের সমান ছিল শুধু ভারত ও চীন। এই অর্জনগুলোকে বিবেচনায় নিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে আমাদের নিয়ে সারাবিশ্ব নতুন করে কী ভাবছে, সেটা বিবেচনায় নিয়েছি। সবার মতামত নিয়ে এ বাজেট সাজিয়েছি।’

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের পর আগামীতে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হবে কৃষিতে। করোনার ধকল সামলানোর জন্য কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই। কৃষি সভ্যতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চাই। কৃষি আমাদের শেকড়। কৃষিকে এমনভাবে সাজাবো যেন কৃষির ওপর নির্ভর করে অর্থনীতিতে আলোকিত করতে পারি। আরও অর্জন গভীর করতে পারি।