চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধান কাটতে কৃষকের পাশে ছাত্রলীগ, চেয়ারম্যান ও মেম্বার

দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসের কারণে ধান কাটার শ্রমিক না পেয়ে সঙ্কটে পড়া কৃষকদের ধান কেটে  সহায়তা করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।

গাজীপুর
টঙ্গীতে স্থানীয় কৃষক বাবুল মাতব্বর শ্রমিক না পেয়ে পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। এদিকে কালবৈশাখী ও বিলের পানি বেড়ে যাবার আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

এ খবর পেয়ে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশিউর রহমান সরকার বাবুর নেতৃত্বে ৪০ জন নেতাকর্মী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দিনভর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫০ নং ওয়ার্ডের গাজীপুরায় বিলে বর্গা চাষী বাবুল মাতব্বরের ২ বিঘা জমির ধান কেটে দেন তারা। ধান কাটা শেষে নেতাকর্মীরা কৃষক বাবুল মাতব্বরের বাড়িতে তা পৌঁছে দেন।

মোশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগ যে কোনো মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে ‘

কক্সবাজার
কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন কক্সবাজার ছাত্রলীগের কর্মীরাও। দেশে চলমান পরিস্থিতেই সময় হয়েছে ধান কাটার। কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলের হাফেজ আহমদের ধান পেকেছে। কিন্তু তিনি ধান কাটার লোক না পেয়ে দুশ্চিন্তাই ভুগছিলেন।

এ খবর পেয়ে রোববার সকাল থেকে কৃষক হাফেজের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী। তারা ১ একর জমির ধানা কেটে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন।

কৃষক হাফেজ আহমদ বলেন, ‘চাষের ধান পেকে গেছে আরও কয়েকদিন আগে। করোনার কারণে শ্রমিক না পেয়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছিলাম না। মাঠে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে কোন উপায় খুজে পাইনি।’

বিজ্ঞাপন

‘‘পরে ছাত্রলীগের ৩০ জন এসে আমার ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন। এখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেনো সবার জীবন আবারো স্বাভাবিক হয়। কৃতজ্ঞতা জানায় ছাত্রলীগকে।’’

ধান কাটার নেতৃত্ব দেয়া জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মইন উদ্দিন বলেন, ‘কৃষক হাফিজের ধান ঘরে তুলতে না পারার খবর পেয়ে কক্সবাজার ছাত্রলীগের ৩০জন নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সারাদিন কাজ করে কৃষকের ফসল ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। তবে আমরা সামজিক দুরত্ব বজায় রেখে কাজগুলো করেছি।’

সুনামগঞ্জ
অসহায় এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ মেম্বাররা।

সোমবার  সকালে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নয়াবন্দ গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক কালা মিয়ার এক কিয়ার জমিতে পাকা ধান,ধান কাটার জন্য নেই শ্রমিক, এ অবস্থা দেখে মানবিক সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন ১নং উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খসরুল আলম।

তিনি তার পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারসহ ১৮ জনের একটি দল গঠন করে, কাস্তে ও রশি নিয়ে কৃষক কালা মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সকাল
১১টা তেকে থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ধান কেটে দেন।

কৃষক কালা মিয়া জানান, ‘তিনি উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত মাটিয়ান হাওরের (এক ৬০ শতাংশ) জমিতে ধানের চাষ করেছেন। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যদের এমন কাজ আমাকে স্বস্তি দিয়েছে।’

চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, ‘করোনার এই দুর্যোগে যদি হাওরে উৎপাদিত ধান কৃষকরা গোলায় তুলতে পারেন তাহলে দেশের জন্য হবে এক বিরাট প্রাপ্তি। আমরা চাই হাওরপাড়ের সবাই মিলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কৃষকদের কাজের পাশে থাকতে।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজেন ব্যানার্জি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে হাওরে উৎপাদিত ধান কৃষকের গোলায় তোলা নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসছেন।’

চেয়ারম্যান,মেম্বারাসহ যারা ধান কাটায় জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি।