চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঝড়ে ট্রলার ডুবি, তীরে ভেসে আসছে মরদেহ

ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় কক্সবাজার সৈকত ও মহেশখালী থেকে ৭ জন জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। এসময় ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ভেসে আসা একটি ফিশিং ট্রলার।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সী-গাল পয়েন্ট থেকে ৬ টি এবং সকাল ১১ টার দিকে মহেশখালীর ধলঘাটা থেকে ১ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোছাইন বলেন, বুধবার ভোররাতে মাছ ধরার ট্রলার ডুবন্ত অবস্থায় সাগরে কুলে আটকা পড়েছে, স্থানীয়দের দেয়া ওই  খবরে তাৎক্ষনিক কক্সবাজার সদর থানার পুলিশের একটি দল টুরিস্ট পুলিশ এর সহায়তায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এসময় ৬জনকে মৃত অবস্থায় ও ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পচন ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে গভীর সমুদ্রে ট্রলারটি ডুবে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোছাইন আরো জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন, ভোলা চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩৫) ও একই এলাকার মোহাম্মদ মনির হোসেন (৪৫)। এর বাইরে আর কোন পরিচয় জানতে পারিনি। এমন কি মরদেহগুলোর পরিচয় ও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ঐ পুলিশ কর্মকর্তা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল বলেন, গত ৭ জুলাই ভোলা থেকে তারা ১৫ জন জেলে চরফ্যাশন এলাকার মিন্টুর ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। গভীর সাগরে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তে ট্রলারটি ডুবে যায়। এরপর কী হয়েছিলো তা বলতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হওয়া আরেক জেলে মনির হোসেন কোন কথা বলতে পারছে না।

কক্সবাজার সী-সেইভ লাইফ গার্ড এর সুপার ভাইজার মোঃ ওসমান গণি জানান, ‘সীগাল পয়েন্টে সমুদ্রের পাড়ে থাকা লোকজনের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশের সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ২ জনকে মূমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মহেশখালীর ধলঘাটার ৬ নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বাশি জানান, সকাল ১১ টার দিকে হাসের চরের সামনে স্থানীয় জেলেরা এক জেলের লাশ দেখে আমাদের খবর দেয়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে ঐ মরদেহটি এখনো হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহিন আব্দুর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি জুয়েল ও মনিরের অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। তাদের পেটে অনেক পানি জমে আছে।মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক জানিয়েছেন,সরকারের ঘোষণাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কক্সবাজারের কোন ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। তবে পটুয়াখালী ও ভোলার কিছু ট্রলার সাগরে যাচ্ছে। এ ট্রলার ও সরকারের নির্দেশ অমান্য করে সাগরে গিয়েছিলো।

Bellow Post-Green View