চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঝুপড়িতে ফেলে রাখা সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে ৭ দিন পর উদ্ধার

পুকুরপাড়ে তালপাতা ও কলাপাতার তৈরি ঝুপড়িতে জোরপূর্বক ফেলে রাখা ঢাকা ফেরত সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে ৭ দিন পর উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে রেখে আসে পুলিশ৷
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের লখন্ডা গ্রামের মাল্লিক বাড়ির নিজ বাড়িতে থাকতে না দিয়ে জোরপূর্বক পুকুরপাড়ে ফেলা রাখা হয়েছিলো লোপা নামক স্বাস্থ্যকর্মীকে।তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ গত ২১ এপ্রিল নিজ উদ্যােগে পুকুরপাড়ে একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করে লোপাকে।

বিজ্ঞাপন

৭ দিনের মাথায় ২৭ এপ্রিল সোমবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুপড়ি ঘরের ভেতর থেকে লোপাকে উদ্ধার করেন থানার ওসি শেখ লুৎফার রহমান।

বিজ্ঞাপন

এসময় শতাধিক জনতা আওয়ামীলীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈর এ অমানবিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে
জানা গেছে, ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে কাজ করেন লোপা।গত ২১ এপ্রিল তিনি গ্রামের বাাড়িতে আসেন। এ খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে দেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ।
তিনি বলেন, ওই মেয়েটি ঢাকায় যে হাসপাতালে চাকুরি করতো সেই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছেন এবং আরো আনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই তাকে গ্রামে থাকতে দেওয়া যাবেনা। পরে ওই নেতার নির্দেশে পুকুরপাডের এক পাশে তাল ও কলা গাছের পাতা দিয়ে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকতে দেয়। ৭ দিন ধরে  লোপা ঝুপড়িতে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন বলে জানা যায়। আবাসন ব্যবস্থার পাশাপশি ছিলোনা গোসল ও বাথরুমের ব্যবস্থা।
একা একা ওই ঝুপড়িতে রাত দিন ২৪ ঘন্টা থাকাটা যে কতোটা কষ্টের এবং যন্ত্রণার তা ব্যাখ্যা করেন তরুণী৷
তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা তার অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিল করার জন্যই উদ্দেশ্যেমুলক ও পরিকল্পিতভাবে আমাকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছেন। হাসপাতালে চাকরি করে রাত দিন ২৪ ঘন্টা আমি কতো মানুষের সেবা করেছি এবং করি অথচ আমার উপর এমন মিথ্যা অমানবিক আচরণ করা হলো। আমি আওয়ামলীগ নেতার কঠোর শাস্তি দাবি করছি সরকারের কাছে।
এবিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, লোপা ঢাকার যে হাসপাতালে চাকরি করে সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছে এবং আরো কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে এমন খবর আমার কাছে ছিলো বলেই তাকে পুকুর পাড়ে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে দিয়ে হোম-কোয়ারেন্টাইনে রেখেছিলাম।
তিনি যে হাসপাতালে চাকরি করেন সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা  যাওয়ার ব্যাপার কি প্রমাণ আছে জানতে  চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়ার ওসি শেখ লুৎফার রহমান বলেন, সংবাদ শুনে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ওই মেয়েটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তার বাড়ি রেখে এসেছি।

এমন অমানবিক অপরাধে তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন এমন এক প্রশ্নে ওসি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।