চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জ্ঞানীগুণীদের বিষয়

আলোড়ন সৃষ্টি করা কোনো ঘটনা না ঘটলে অলস বাঙালির প্রহর কাটে না। কাজের চাইতে গালগপ্প নিয়ে থাকতেই তাদের বেশি আগ্রহ। করোনাভাইরাসে সমগ্রদেশ আছে এক ভয়ানক ঝুঁকির মধ্যে। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ আছে, যাদের ভেতরে বিষয়টা নিয়ে কোনো ভাবান্তর নেই। যাদের অজ্ঞতার কারণে দেশের আজ এই পরিণতি। বরং করোনাভাইরাস নিয়ে চলছে নানারকমের কটূক্তি, কৌতুক ও গুজব। এসব চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে লোকের মুখে মুখে।

৮ মার্চ তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে জানার পর থেকেই গণসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চলছে। এমনকি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজের গান দিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়েছে প্রচার মাধ্যমগুলো। এসবের মধ্যেই আবার ইটালি ফেরত ভাইরাস আক্রান্ত তিন ব্যক্তি অনায়াসে ঘুরে বেড়ালো দাওয়াত খেলো।

বিজ্ঞাপন

২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মানুষ যেই হারে স্থানান্তরিত হতে লাগলো, যেন ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া। অফিস ছুটি, বাচ্চাদেরও স্কুল বন্ধ, তাই অবকাশ যাপনে অনেকেই ছুটে গেলেন পর্যটনকেন্দ্রে।

সারাদেশে সাধারণ লকডাউন ঘোষণা করা হলো। মানুষ লকডাউন অমান্য করে যখন ঘরের বাইরে যেতে লাগলো, তখন জনগণের প্রতি কঠোরতা বাড়িয়ে দেওয়া হলো। মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হলো। কথায় আছে ‘চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী।’ নিষেধাজ্ঞা না মেনে তারা বাইরে যেতেই থাকলো। তারা বলতে, বিশেষ করে গ্রামের ৫০/৬০ বছর বয়সের লোকজন কেউ দাদা,নানা,চাচা বা মাতুব্বর পর্যায়ের। তাদের সাংসারিক কাজের কোনো চাপ নেই। তবে তাদের একটি কাজ তা হলো চায়ের দোকানে বসে সংবাদ থেকে শুরু করে নানান বিষয়ে আলোচনা সমালোচনায় মশগুল থাকা, সরকার কিংবা সরকার প্রধান কী কী ভুল ত্রুটি করলো তা নিয়ে গবেষণা।

এই পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা রহমান একজন মুরুব্বিকে কান ধরে উঠ-বস করালেন, তাদের প্রতি ওইরকম আচরণ অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। পিতৃতুল্য মনে হয়েছে। যাইহোক,এই ব্যাপারে উদাহরণ কিংবা যুক্তিতর্কে যেতে চাই না। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সেদিন সায়মা রহমান যা করছিলেন তা যথার্থ মনে করলে আজ পরিস্থিতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে থাকতো।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে ৩ এপ্রিল পোশাক শ্রমিকরা চাকরি বাঁচাতে, বেতনভাতা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকায় এসে পৌঁছালেন। অসহায় অবোধ মানুষগুলো বুঝতে পারলেন না যে, জীবন যদি না বাঁচে তো কী হবে জীবিকায়! এখন চলছে পোশাক কারখানার সামনে জমায়েত হয়ে অসহায় শ্রমিকদের বেতন আদায়ের আন্দোলন। চলছে চেয়ারম্যান, মেম্বারদের চাল চুরির ধুম।

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী এই দুর্যোগে গরিব-দুঃখী,অসহায়দের জন্য চালসহ জীবন ধারনের খাদ্য সামগ্রী বিনামুল্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে খাদ্য যথেষ্ট মজুত আছে। দেশ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে আকষ্মিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। যার দরুণ ভাইরাস প্রতিরোধ করার মতো পূর্ব প্রস্তুতি না থাকাটাই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় জ্ঞানী গুণীজনেরা সরকারের পাশে থেকে গঠনমূলক যৌক্তিক পরামর্শ দেবেন, এমনটাই তো আবশ্যক। তা না হয়ে চলছে নানা ঋষির নানা মত। সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে কেউ কেউ রাগে-ক্ষভে-অভিমানে মৌন হয়ে আছেন। একদল সুযোগ সুবিধার পায়তারায় তোষামোদে মত্ত। তবে এই মূহুর্তে গঠনমূলক সমালোচনাটাই একান্ত প্রয়োজন।

এইক্ষেত্রে সেই প্রবাদটিই বলা যায়— মূর্খ বন্ধুর চাইতে শিক্ষিত শত্রুও ভালো।
হায় দেশ! অসচেতনতা আর খামখেয়ালির জন্য দেশ আজ মহামারির ঝুঁকিতে।

সবশেষে বুকভরা একরাশ বেদনা আর হাহাকার নিয়ে স্যালুট জানাই তাদের, যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ নামক যুদ্ধে জীবন দিয়েছেন আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা নিরন্তন কাজ করে চলেছেন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)