চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জেলায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক জেলার হাজার হাজার মানুষ।

রাজবাড়ী
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে নতুন করে রাজবাড়ী জেলার ৬ ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে: পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৫’শ, গোয়ালন্দ উপজেলায় ৪৭৫, পাংশা উপজেলায় ৫’শ এবং কালুখালী উপজেলায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দী মানুষের জন্য শুকনো খাবার ও চালের বরাদ্দ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। এরই মাঝে নদী ভাঙনের ফলে অন্তত ৫শ’ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার ব্যস্ততম দৌলতদিয়ার লঞ্চঘাট ও ফেরি ঘাট।

পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকার কৃষকরা বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার গত কয়েক দিনে প্রায় ৫শ’ বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পদ্মার পানি বিপৎসীমার একটু নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রাজশাহী মহানগরীর নদীর ধার এলাকা ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চারটি উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পনিবন্দী হয়েছে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই তারা চরাঞ্চর ছাড়তে শুরু করেছেন। গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন।

কৃষ্টিয়া
পদ্মায় পানি বিপৎসীমার ৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার ধসে গেছে। এতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় খাদ্য সহয়তা বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।

নাটোর
নাটোরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লালপুর, বিলমারিয়া এবং ঈশ্বরদী এই তিন ইউনিয়নের ১৮ চরের অন্তত ৩ হাজার মানুষ। খোলা হয়েছে তিনটি ইউনিয়নে তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র। চর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।

গবাদি পশু নিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে চর অঞ্চলের মানুষ। এখন পর্যন্ত ৩টি ইউনিয়নের ১২’শ পরিবারের মাঝে ১৮ মেট্রিক টন চাল এবং ১৯০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে গেছে পটল, বেগুন, লাউ, কুমড়া, মূলাসহ বিভিন্ন ধরনে শীতের আগাম সবজি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আখ এবং পেয়ারা বাগান। জানা গেছে এখন পর্যন্ত ৫০০হেক্টর আখ এবং অন্যান্য ফসল ২২হেক্টর ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

Bellow Post-Green View