চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জুহু কবরস্থানে হৃদয় বিদারক দৃশ্য

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে প্রয়াত হন ৯৮ বছর বয়সী বলিউডের ট্রাজেডি কিং খ্যাত কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমার। এদিন বিকেলে কিংবদন্তীর দাফন হয় মুম্বাইয়ের জুহুর শান্তাক্রুজ কবরস্থানে। দিলীপ কুমারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। এসময়ে জুহু কবরস্থানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

দিলীপ কুমারকে যখন কবরস্থানে নেয়া হয়েছে, তখন আশেপাশের সবার মুখে তার প্রশংসা। কেউ তার বিনয়ী আচরণের প্রশংসা করছেন, কেউ স্ত্রীর প্রতি অনুরাগের কথা বলছেন, আবার অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।

মুম্বাই শহরের বান্দ্রার বাসিন্দা রেহানা খান এসেছিলেন প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের আলো ছিলেন তিনি। আমি তার অভিব্যক্তি পছন্দ করতাম। কোনো তারকার শেষ বিদায়ে আসিনি আমি। কিন্তু ১৫ বছর বয়স থেকে তার সিনেমা দেখেছি, তাই এসেছি। আমার শ্বশুর তাকে চিনতেন। সেই সুবাদে একবার দেখা হয়েছিল। কিন্তু ছবি তুলতে পারিনি। তিনি কখনও কারও মনে কষ্ট দেননি, কখনও না।

শুধু রেহানা খান নয়, দিলীপ কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন উপস্থিত সবাই। আনসারি জরিওয়ালা নামের আরেক ভক্ত এসেছিলেন অভিনেতাকে বিদায় দিতে। তিনি সায়রা বানুর পোশাকে এমব্রয়ডারির কাজ করতেন আগে। ১৯৮৯ সালের দিকে একাধিকবার গিয়েছেন দিলীপ কুমারের বাড়িতে। আনসারি বলেন, ‘তিনি দেশকে খুব ভালোবাসতেন। একবার রমজানের শেষদিনে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি শিশুর মতো আনন্দিত ছিলেন এবং আমাদের সবাইকে ডেকে ছাদে নিয়ে গেছেন ঈদের চাঁদ দেখানোর জন্য। তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতে বলতেন সবসময়ে, শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো ভারতের জন্য দোয়া করতে বলতেন। তিনি স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন, সবসময়ে তার পরামর্শ মেনে চলতেন।’

বিজ্ঞাপন

আনসারি আরও বলেন, ‘১৯৯২ সালে আমি একজন দুঃখী মানুষকে নিয়ে ইউসুফ সাহেবের বাড়িতে যাই। চেনা নেই জানা নেই, তবুও তাকে অর্থ, খাবার এবং কাপড় দিয়ে সহায়তা করেছিলেন তিনি।’

মাসুদ খান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘দিলীপ কুমারের সঙ্গে কয়েকবছর আগে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ক্যাটারিং সার্ভিস আমার, খাবার দিতে যেতাম। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি খেতে ভালোবাসতেন। কাবাব আর রান বিরিয়ানি তার পছন্দের খাবার। তিনি ধার্মিক ছিলেন। খুব ভাল মানুষ ছিলেন।’

করোনা মহামারীর মাঝেও জুহু কবরস্থানে ২০০ এর বেশি মানুষ শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন দিলীপ কুমারকে। স্বাভাবিক সময় হলে ভক্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হতো।

অপ্রীতিকর যে কোনো পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কবরস্থানে। অভিনেতার দেহে জড়িয়ে দেয়া হয় ভারতের পতাকা।

বিজ্ঞাপন