চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জামিন বাতিল

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জামিন বাতিল করেছে ব্রিটিশ আদালত।

বুধবার তার আইনজীবীর করা আবেদনের খারিজ করে দেন ব্রিটিশ আদালত।

বিজ্ঞাপন

তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যার্পণ না করতে ব্রিটিশ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের আপিল শুনানি স্থগিত থাকায় ব্রিটিশ কারাগার থেকে জামিন পেতে পারেন। তবে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

গুপ্তচরবৃত্তি আইন এবং সরকারী কম্পিউটার হ্যাক করার ষড়যন্ত্রের কারণে তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮টি ফৌজদারি অভিযোগ এনে তাকে হস্তান্তের করার দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ আইনী লড়াইয়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে গত সোমবার জয় পায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।  তারপরেই এ জামিনের আবেদন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ওই আদালতের রায়ে বলা হয়, উইকিলিকস’র প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। অ্যাসাঞ্জের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যার ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে এই রায় দেন বিচারক। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহের মধ্যে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে তারা।

২০১২ সালের জুন থেকে  ৮ বছরের বেশি সময় ধরে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

বিচারক ভেনেসা বারিটসার বলেন, আমি সন্তুষ্ট, কারণ আমি বিশ্বাস করি যদি অ্যাসাঞ্জকে আজ মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে  তিনি কোর্টে আপিলের জন্য আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হবেন।

২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন ব্রিটিশ আদালত। তখন থেকে বেলমার্শ নামক কুখ্যাত কারাগারে সাজা ভোগ করছেন অ্যাসাঞ্জ। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। ব্রিটিশ পুলিশও অ্যাসাঞ্জকে হেফাজতে নিয়েই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।