চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জীবিকার চেয়ে জীবন অনেক বড়, শুটিং নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়: জায়েদ

করোনা বিস্তার রোধে প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর ৫ জুন থেকে দেশের সিনেমা শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। সে হিসেবে এখন যে কেউ চাইলেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে করতে পারবেন শুটিং।

তবে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান এই প্রেক্ষাপটে শুটিংয়ের পক্ষে নন অনেক তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই। সেই তালিকায় আছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

বিজ্ঞাপন

শিল্পী সমিতির এই নেতা মনে করেন, ‘পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর অবস্থার দিকে যাচ্ছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি শিল্পীদের আরেকটু ধৈর্য্য ধরা উচিত। যেহেতু চলচ্চিত্র সকল সংগঠন মিলে শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই আমি কাউকে নিষেধ করছি না; আবার আমি নিষেধ করলে শিল্পীদের অনেকেই হয়তো বলবেন ‘আমি ঘরে কতোদিন বসে থাকবো, আমার খাবার কে দিবে?’ তাই আমি বলবো, যাদের শুটিংয়ে একদম না গেলেই নয় তারা সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করুন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি আমাদের এখানে আগের চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। আমরা একজন শিল্পীকেও হারাতে চাই না। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জীবিকার চেয়ে জীবন অনেক বড়।

বিজ্ঞাপন

‘শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি অনুরোধ করবো, শুটিং শুরু করলে অবশ্যই স্বাস্থ্য নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করুন’ যোগ করে জায়েদ খান বলেন, দয়া করে বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করবেন না। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। শুটিং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আরেকটা অনুরোধ, যতো কম লোকবল নিয়ে পারেন, শুটিং করুন। বিগ অ্যারেঞ্জমেন্ট করে এই মুহূর্তে শুটিং করিয়েন না।

শিল্পীদের প্রতি ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে জায়েদ খান বলেন, আমরা তো কাউকে শুটিং করতে নিষেধ করার অধিকার রাখি না। যেহেতু এখানে রুটি রুজির প্রশ্ন। তবুও শিল্পী সমিতির একজন হিসেবে শিল্পীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, প্রতিটি শিল্পীর জীবন আমাদের জন্য মূল্যবান। যদি পারেন দয়া করে আরেকটু ধৈর্য্য ধরুন। আগে জীবন বাঁচুক, তারপর শুটিং করা যাবে।

এতো গেল শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কথা, কিন্তু চিত্রনায়ক জায়েদ খানের কী খবর। তার পরবর্তী ছবি নিয়ে কী পরিকল্পনা?

জানতে চাইলে জায়েদ খান বলেন, আমি এই পরিস্থিতিতে সহসাই শুটিংয়ে নামছি না। আমারতো নিজের ছবি ছাড়াই আরো দুটো ছবি আছে, আমি সবাইকে বলে দিয়েছি ‘আই উইল টেক টাইম’! কারণ আমি একটি শুটিং টিম নিয়ে যাবো, সেখানে কারো কিছু হয়ে গেলে জবাবদিহিতার কী হবে! ব্যক্তি জায়েদ খানের চেয়ে তখন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের উপর দায় বর্তাবে বেশি! শুটিংয়ে গেলেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবেই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে জুন মাসের শেষটা আরো ভয়ঙ্কর হবে। সেই কথা মতোই আমরা এখন দেখতে পারছি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা। প্রতিদিন ৩০-৪০ জন মানুষ মারা যাচ্ছেন, দিনে শনাক্ত হচ্ছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ! তাই নিজের ও আমার চারপাশের মানুষের সুরক্ষার জন্যই আমি আরো সময় নেবো।