চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জীবাণুনাশক ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি

এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক না থাকায় করোনাভাইরাস ঠেকাতে নানান গুজব রটেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সেই গুজবে কান দিয়েছেন বাংলাদেশেরও কিছু মানুষ। কেউ নিজের সারা গায়ে অ্যালকোহল মেখে, কেউ এটা-ওটা খেয়ে, কেউ বা আবার ঝাড়-ফুঁক দিয়ে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন। এর বাইরে আছে আরও কত কি কাণ্ড!

ইদানিং আবার নতুন এক ধারণার জন্ম হয়েছে। তা হলো, মানুষের শরীরে জীবাণুনাশক ছিটানো (স্প্রে) হলে ভাইরাসটি মারা যায়। যদিও বেশ কিছুদিন আগেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কেননা শরীরে থাকা করোনাভাইরাসকে অ্যালকোহল, ক্লোরিন বা হাইপোক্লোরাইড (ব্রিচিং পাওডার) ছিটিয়ে এটি মেরে ফেলা সম্ভব না। বরং এসব পদার্থ চোখ-মুখ ইত্যাদির ক্ষতি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি আবার একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। মানুশের শরীরে সরাসরি জীবাণুনাশক ছিটানো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানকার রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনের কাছে এ বিষয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে এক ধরনের তরল ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটা মানুষের শরীরের বাইরের অংশ ও চোখ-মুখের জন্য ক্ষতিকর। এমন কি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনেও তা বিদ্ধিবদ্ধ নয়।

বিজ্ঞাপন

এতো গেলো মানবদেশের ক্ষতির কথা। কিন্তু এতে যে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এরই মধ্যে রাস্তা-ঘাটে অতিমাত্রায় জীবাণুনাশক ছিটানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছে।

তার বলছে, জীবাণুনাশকের তুলনায় মিশ্রিত তরলে পানির পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রায় না থাকলে বা কম হলে তা পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং এসব বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা যেন আরও বড় কোনো ক্ষতির মুখে না পড়ি, তা এখনই ভাবতে হবে।

আমরা জানি, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, দিনে কয়েকবার হাত ধোয়ার পাশাপাশি যেসব জিনিস অনেকেই ধরে, সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। তাতেই করোনা প্র্রতিরোধ সম্ভব।

আমরা মনে করি, যে জীবন রক্ষার জন্য আমাদের এতো আয়োজন; তা যেন কোনো কিছুর বাড়াবাড়িতে নতুন করে হুমকির মুখে না পড়ে।