চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরিণতি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্ব যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতিতে মেতে উঠেছিল দু’টি প্রতিষ্ঠান। একটি রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতাল, অন্যটি জেকেজি হেলথকেয়ার। দু’টি প্রতিষ্ঠানই করোনাকালে মানবতার বুলি আওড়িয়ে মানুষের আবেগ অনুভূতিকে পুঁজি করে জঘন্য খেলায় মগ্ন হয়েছিল। আশার বিষয় হলো: দুই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বা জালিয়াতির মূল হোতারা শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে।

বুধবার ভোরে র‌্যাবের একটি বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার সীমান্তে দেবহাটা থানার সাকড় বাজারের পাশে অবস্থিত লবঙ্গপতি এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড এই আসামীকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৩ জুন জেকেজি হেলথকেয়ারের ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর ৪টি মামলা করা হয় তেজগাঁও থানায়। গত রোববার সাবরিনাকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও ডিসি অফিসে আনা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার রোগীকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০টি প্রতিবেদন তৈরি করা হয় জেকেজি কর্মীদের ল্যাপটপে। যার মাধ্যমে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের কথা থাকলেও প্রতিটি পরীক্ষার জন্য নেয়া হতো সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার।

করোনাকালের দুই ঘটনা প্রমাণ করে আমাদের নৈতিকতা কোন পর্যায়ের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এটাই পুরো বাংলাদেশের চিত্র নয়। ডাক্তাররা এখানে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে রোগীর সেবা করে তাদের সুস্থ করে তুলছেন। জীবন উৎসর্গ করছেন পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সাংবাদিকসহ সামনের সারির বহু যোদ্ধা। রিজেন্ট এবং জেকেজি হেলথকেয়ার তাদেরকেও এখন প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলল।

সাহেদ কিংবা ডা. সাবরিনারা একদিনে তৈরি হয় না। এখন তাদের তৈরি করার কারখানা বন্ধের সময় এসেছে। নয়তো আরও বহু সাহেদ-সাবরিনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে এখনও ধরা না পড়া সাহেদ-সাবরিনারা এদের শেষ পরিণতি দেখে শিক্ষা নিয়ে প্রতারণা ও দুর্নীতির ঘৃণ্য পথ পরিহার করবে বলে আমাদের আশাবাদ। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আরও রিজেন্ট-জেকেজি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।